২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই রাত জাগার ম্যারাথন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো— তিন দেশের যৌথ আয়োজনে হওয়ায় বিশ্বের বহু প্রান্তের মতো ভারতীয় দর্শকদেরও গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ম্যাচ দেখতে হতে পারে। টানা প্রায় ছয় সপ্তাহ এমন রুটিন সামলানো সহজ নয়। তবে কয়েকটি সহজ কৌশল মেনে চললে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চও উপভোগ করা যাবে, আবার ঘুমের ক্ষতিও তুলনামূলকভাবে কম হবে।
১. সব ম্যাচ দেখার জেদ করবেন না
চার বছর পর বিশ্বকাপ আসে বলে সবক'টি ম্যাচ দেখতেই হবে— এমন কোনও নিয়ম নেই। আগে থেকেই সূচি দেখে নিজের প্রিয় দলের ম্যাচ, হাইভোল্টেজ লড়াই এবং গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচগুলো বেছে নিন। অপ্রয়োজনীয় ম্যাচ এড়িয়ে গেলে শরীরের উপর চাপ অনেকটাই কমবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা না ঘুমালে বিভ্রম বা হ্যালুসিনেশন পর্যন্ত হতে পারে।
২. ঘুমের রুটিন যতটা সম্ভব একই রাখুন
ঘুম বিশেষজ্ঞ ও ' থিঙ্ক লেস, স্লাপ মোর' বইয়ের লেখক স্টেফানি রোমিশেভস্কির পরামর্শ, প্রতিদিন যতটা সম্ভব একই সময়ে ঘুম থেকে উঠুন। সকালে ওঠার পর কিছুক্ষণ সূর্যের আলোয় থাকুন এবং প্রয়োজনে দিনের বেলা ২০-৩০ মিনিটের ছোট্ট পাওয়ার ন্যাপ নিতে পারেন। কয়েক সপ্তাহের অনিয়মকে বড় সমস্যা ভেবে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করাই ভাল। কারণ মানুষের শরীর অল্প সময়ের জন্য বদলে যাওয়া ঘুমের রুটিনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
৩. ভাগ ভাগ করে ঘুমানোর অভ্যাস করুন
গভীর রাতের ম্যাচ থাকলে একটানা ঘুমের বদলে ভাগ-ভাগ করে ঘুমানো কার্যকর হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, রাত ৯টার মধ্যে ঘুমিয়ে মাঝরাতে উঠে ম্যাচ দেখুন। খেলা শেষ হলে আবার চার ঘণ্টার মতো ঘুমিয়ে সকালে দিনের কাজ শুরু করুন। এতে মোট ঘুমের সময় অনেকটাই পূরণ হয়ে যাবে।
৪. ম্যাচ শেষেই বিছানায় ছুটবেন না
রাতের ম্যাচের উত্তেজনা অনেক সময় ঘুমকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমানোর চেষ্টা না করে নিজেকে অন্তত ২০-৩০ মিনিট সময় দিন। গরম জলে স্নান করতে পারেন, হালকা কোনও বই পড়তে পারেন বা শান্ত পরিবেশে কিছুক্ষণ কাটান। মোবাইলে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা বা 'আর কত ঘণ্টা ঘুম বাকি'— এই হিসেব করতে বসবেন না। এতে ঘুম আরও দেরিতে আসতে পারে।
কম ঘুম হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক দিন কম ঘুম হলে ক্লান্তি, মনোযোগে ঘাটতি বা বিরক্তি বাড়তে পারে। তবে অল্প সময়ের জন্য এমন পরিবর্তন শরীর সাধারণত সামলে নিতে পারে। তাই অতিরিক্ত উদ্বেগ না করে ফুটবল বিশ্বকাপের আনন্দ উপভোগ করুন। কারণ বিশ্বকাপ হয়তো সাময়িক, কিন্তু সেই স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর আনন্দ অনেক দিন মনে থেকে যায়।















