পৃথিবীর ঘূর্ণনের স্পিড ৮৩৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। ফলে একবার পাক খেতে পৃথিবীর লাগে ২৩ ঘণ্টা, ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড। ভূগোল বইতে এই তথ্যই পাওয়া যায়। যা রাউন্ড ফিগারে ২৪ ঘণ্টা ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু জানেন কি, বর্তমানে মোটেই এই স্পিডে ঘুরছে না। বরং হুহু করে বাড়ছে এই স্পিড।
সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গিয়েছে পৃথিবীর ঘূর্ণনের স্পিড দারুণ বেড়ে গিয়েছে। আর যদি এই জিনিস চলতেই থাকে, অর্থাৎ কোনও বদল না আসে তাহলে, এবং এই বেড়ে যাওয়া গতিতেই পৃথিবী ঘুরতে থাকে তাহলে ২০২৯ সালের মধ্যে প্রথমবারের জন্য বিশ্ববাসী নেগেটিভ লিপ সেকেন্ডের সাক্ষী থাকবে।
সাধারণত ঘড়িতে লিপ সেকেন্ড যোগ করা হয় যাতে ভারতের ধীর গতিতে ঘূর্ণনের সঙ্গে তাল মেলানো যায়।সময়ের হেরফের না হয়। কিন্তু সেই ধারা বদলে এখন যখন পৃথিবী দ্রুত গতিতে ঘুরছে তখন এই লিপ সেকেন্ডের তো প্রয়োজন হবেই না, উল্টে নেগেটিভ লিপ সেকেন্ড দেখা যাবে।
কত বেড়েছে পৃথিবীর ঘূর্ণনের স্পিড? গবেষকদের মতে, মিলিসেকেন্ডের ছোট ফ্র্যাকশন সমান বেড়েছে পৃথিবীর ঘূর্ণনের স্পিড। আর সেই কারণেই এতদিন যেখানে কোঅর্ডিনেটেড ইউনিভার্সাল টাইমে লিপ সেকেন্ড যোগ করা হতো, সেখানে এবার সেকেন্ড কমাতে হবে।
পৃথিবীর এই ঘূর্ণনের স্পিডে বদল আসায় কী প্রভাব পড়বে মানুষের জীবনে? না, দৈনন্দিন জীবনে কোনও ফারাক পড়বে না। তবে কম্পিউটার সিস্টেম, জিপিএস, ইত্যাদির ক্ষেত্রে বিস্তর প্রভাব পড়বে। এমনকী শেয়ার বাজার সহ অন্যান্য টেকনোলজিক্যাল বিষয়েও এর প্রভাব দেখা যাবে। কেন? কারণ এগুলো দারুণ সূক্ষ্ম ভাবে সময় মেনে চলে।
তবে বর্তমানে বিজ্ঞানীরা নিবিড় ভাবে গোটা বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করছেন, পৃথিবীর ঘূর্ণনের স্পিডে আসা এই বদল সাময়িক না পার্মানেন্ট সেইটাই বোঝার চেষ্টা চলছে।















