বাঙালি বরাবরই চা প্রেমী! রোজ সকালে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক যেন সারা দিনের এনার্জি জোগায়। তবে শুধুই তো সকালে নয়, অফিসে কিংবা পাড়ার মোড়ে, নানা ছুঁতোয় দিনভর চলতে থাকে চা পান। অনেকের আবার খাওয়ার ঠিক পরপর গরম চা খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু এই অভ্যাস যে মোটেই ঠিক নয়। নিয়মিত খাওয়ার পর চা পান করলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করেন বিশেষজ্ঞরা।
আসলে চায়ের মধ্যে থাকা ট্যানিনস এবং ক্যাফেইন খাবারের সঙ্গে মিশলে শরীরের কিছু কাজকে বাধা দিতে পারে। বিশেষ করে আয়রন শোষণ এবং হজমের ক্ষেত্রে। চায়ের ট্যানিনস খাবারের আয়রনের সঙ্গে মিশে তা শোষণে বাধা দেয়। ডাল, শাক-সবজি বা অন্যান্য আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের পুষ্টি ঠিকমতো শরীরে পৌঁছয় না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে হালকা মাথা ঘোরা, ক্লান্তি বা রক্তাল্পতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
খাবারের সঙ্গে চা খেলে হজম ক্ষমতা কমে যেতে পারে। অনেকেই পেট ফোলা, গ্যাস বা ভারী অনুভূতি অনুভব করেন। শরীর খাবার হজম করার বদলে চায়ের সঙ্গে লড়ে থাকার কারণে এই সমস্যা হয়।
চায়ের ক্যাফেইন এবং ট্যানিনস অতিরিক্ত স্টম্যাক অ্যাসিড তৈরি করতে পারে। যারা আগে থেকেই অ্যাসিডিটি বা হজমের সমস্যা ভুগছেন, তাদের জন্য খাওয়ার পরে চা খাওয়া আরও অসুবিধার কারণ হতে পারে।
কখন চা খাওয়া উচিত? বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাওয়ার পর ৩০–৬০ মিনিট অপেক্ষা করে চা খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। এতে খাবার ভালভাবে হজম হয় এবং শরীর পুষ্টি শোষণে সময় পায়। যারা আয়রনের ঘাটতি ভুগছেন, তাদের জন্য এক ঘণ্টা বা তার বেশি সময় পর চা খাওয়া আরও ভাল।
যদি খাওয়ার পরে কিছু গরম পানীয় খেতে ইচ্ছা করে, তবে হালকা হার্বাল চা যেমন আদা চা বা ক্যামোমাইল চা, কিংবা শুধু গরম জল খাওয়া ভাল। এগুলো হজমে সাহায্য করে এবং শরীরের পুষ্টি শোষণে কোনও সমস্যা তৈরি করে না।
আসলে চা খাওয়া নিজে কোনও সমস্যা নয়। তবে খাবারের সঙ্গে বা ঠিক পরপর চা না খেলে পেটও হালকা থাকে, হজম ঠিক থাকে এবং আয়রনসহ অন্যান্য পুষ্টি ভালভাবে শোষিত হয়।
