বর্তমান জীবনযাত্রায় ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বেড়েই চলেছে৷ অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এই রোগে আক্রান্ত থাকলেও কোনও উপসর্গ বুঝতে পারেন না৷ চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করালে অনেক ক্ষেত্রেই রোগটি ধরা পড়ে না। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে চিনি ছাড়া কালো কফি খেলে লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য কিছুটা উপকার হতে পারে।


ফ্যাটি লিভার তখনই হয়, যখন লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে। এর প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল। শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং খাওয়ার সময়ের গন্ডগোলেও ফ্যাটি লিভার হয়৷  প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটির কোনও লক্ষণ না থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি লিভারে প্রদাহ, ফাইব্রোসিস এমনকি সিরোসিসের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে।

গবেষকদের মতে, ব্ল্যাক কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য জৈব উপাদান লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে৷  লিভারের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে। কিছু গবেষণায় আরও ইঙ্গিত মিলেছে যে নিয়মিত কফি খেলে গুরুতর লিভারের রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ব্ল্যাক কফি কোনও ওষুধ নয়। শুধুমাত্র কফি পান করলেই ফ্যাটি লিভার সেরে যাবে—এমন ধারণা ভুল। বরং এটি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অংশ হতে পারে। 

এর সঙ্গে সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিরিক্ত চিনি, ক্রিম বা ফ্লেভারযুক্ত সিরাপ মিশিয়ে কফি খেলে কোনও উপকার হয় না৷ উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, গর্ভাবস্থা বা ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কফি পান করা উচিত।

ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, কম তেল-মশলাযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি খাওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।