ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ, অফিস, পরিবার-সব সামলে ঘর পরিষ্কার করার জন্য আলাদা করে সময় বের করা অনেকের পক্ষেই কঠিন। ফলে অনেকের ঘরই অগোছালো হয়ে ওঠে। এদিকে হঠাৎ করে অতিথি এসে গেলেই বিপদে পড়তে হয়। সেক্ষেত্রে সঠিক কৌশল জানলে মাত্র ১০ মিনিটে ঘর অনেকটাই পরিষ্কার ও পরিপাটি রাখা সম্ভব। 

প্রথমেই পুরো বাড়ি একসঙ্গে পরিষ্কার করার চিন্তা বাদ দিতে হবে। এতে কাজ অনেকটা বেশি মনে হয়। বদলে ছোট জায়গা দিয়ে শুরু করা ভাল। যেমন বসার ঘরের টেবিল বা সোফার আশপাশ। ছড়িয়ে থাকা বই, খবরের কাগজ, রিমোট বা অন্যান্য জিনিস ঠিক জায়গায় রাখলেই ঘর অনেকটা গুছানো দেখায়।

এরপর নজর দিন অপ্রয়োজনীয় জিনিসের দিকে। বাড়িতে এমন অনেক জিনিস থাকে, যা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয় না। মাত্র কয়েক মিনিট সময় নিয়ে সেগুলো আলাদা করে রাখুন। যেগুলো দরকার নেই, সেগুলো দান করা বা ফেলে দেওয়াই শ্রেয়। এতে জায়গা যেমন বাড়ে, তেমনই মানসিকভাবেও হালকা লাগে।

রান্নাঘরের পরিষ্কারেও সময় বাঁচানোর কৌশল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঙ্কে থালা-বাসন জমিয়ে না রেখে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেললে পরিষ্কারের ঝামেলা কমে যায়। কাউন্টার ও গ্যাসের পাশটা দ্রুত একবার মুছে নিলে রান্নাঘর অনেক পরিষ্কার দেখায়।

বাথরুম পরিষ্কার করতে বেশি সময় লাগে, এমন ধারণা ভুল। প্রতিদিন মাত্র ২–৩ মিনিট সময় নিয়ে বেসিন, আয়না ও কমোডে একবার জল বা ক্লিনার ছিটিয়ে মুছে নিলেই জায়গাটি ঝকঝকে থাকে। এতে সপ্তাহের শেষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চাপ কমে যায়।

ঘর পরিষ্কার রাখার জন্য নিয়মিত ছোট অভ্যাস গড়ে তোলা সবচেয়ে জরুরি। যেমন সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা গুছিয়ে নেওয়া, ব্যবহার করা জিনিস সঙ্গে সঙ্গে জায়গায় রাখা, দিনের শেষে ময়লা ফেলে দেওয়া। এই ছোট অভ্যাসগুলোই ঘরকে দীর্ঘদিন সুন্দর রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মত, একদিনে সব পরিষ্কার করার চেষ্টা না করে প্রতিদিন অল্প সময় দিলে ঘর সবসময়ই পরিপাটি থাকবে। এতে সময় যেমন বাঁচবে, তেমনই অগোছালো ঘরের চিন্তায় মানসিক চাপও কমবে।