অনেকের খাওয়ার পর বুকজ্বালা, গলায় জ্বালাভাব বা টক ঢেকুরের সমস্যায় ভোগেন। কেউ বেশি ঝাল খাবার খেলেই এই সমস্যা হয়, আবার কারও প্রায় রোজই এমন হয়। বেশিরভাগ মানুষ এটিকে সাধারণ অ্যাসিডিটি বলে ধরে নেন এবং ওষুধ খেয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বারবার অ্যাসিডিটির সমস্যা হওয়া কখনওই স্বাভাবিক নয়। এটি শরীরের ভিতরে বড় কোনও সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
চিকিৎসকদের কথায়, আমাদের পেটে খাবার হজম করার জন্য এক ধরনের অ্যাসিড তৈরি হয়। সাধারণভাবে এই অ্যাসিড পেটের মধ্যেই থাকে এবং খাবার হজমে সাহায্য করে। কিন্তু অনেক সময় সেই অ্যাসিড পেট থেকে উপরের দিকে খাদ্যনালীতে উঠে আসে। তখন বুকজ্বালা, গলায় জ্বালা, টক ঢেকুর বা মুখে টক স্বাদ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যাসিড রিফ্লাক্স।
যদি এই সমস্যা মাঝে মাঝে হয়, তাহলে খুব চিন্তার কারণ নাও হতে পারে। কিন্তু যদি সপ্তাহে কয়েকবার এমন হয়, তাহলে সেটি গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজে পরিণত হতে পারে। এই রোগ দীর্ঘদিন থাকলে খাদ্যনালীর ভেতরে প্রদাহ, ক্ষত বা আলসার হতে পারে। অনেকের খাবার গিলতে কষ্ট হয়, গলা বসে যায় বা দীর্ঘদিন কাশি থাকে। কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজকাল অনিয়মিত জীবনযাপন এবং ভুল খাবারের অভ্যাসের কারণেই এই সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড, বেশি চা-কফি, কোমল পানীয়, ধূমপান ও অ্যালকোহল অ্যাসিডিটির বড় কারণ। অনেকেই রাতে দেরি করে ভারী খাবার খান এবং খাওয়ার পরেই শুয়ে পড়েন। এতে পেটের অ্যাসিড সহজেই উপরের দিকে উঠে আসে। এছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ, কম ঘুম এবং ওজন বেশি থাকলেও এই সমস্যা বাড়ে।
চিকিৎসকদের মতে, অনেক মানুষ নিয়মিত অ্যান্টাসিড খেয়ে সাময়িক আরাম পান। কিন্তু শুধু ওষুধ খেয়ে সমস্যা চেপে রাখা ঠিক নয়। কারণ এতে মূল রোগ ধরা পড়ে না। তাই দীর্ঘদিন ধরে বুকজ্বালা বা টক ঢেকুর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এই সমস্যা কমাতে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যেমন একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খেতে হবে। খুব ঝাল, তেলেভাজা ও অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পরে ঘুমোতে যেতে হবে। নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও রাখতে হবে।
চিকিৎসকদের মতে, বারবার অ্যাসিডিটি হওয়াকে কখনও সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করবেন না। সময়মতো চিকিৎসা করালে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।















