জিমে গিয়ে নারীরা শুধু ট্রেডমিলে দৌড়াবেন কিংবা একটু আধটু যোগব্যায়াম-পিল্যাটেস করবেন, আর পুরুষেরা ভারী ওজন তুলে ‘মাচো’ বডি বানাবেন—এই ধারণা এখন বড্ড সেকেলে। ‘এনিটাইম ফিটনেস ইন্ডিয়া’-র পারফরম্যান্স বিশেষজ্ঞ কুশল পাল সিং স্পষ্ট জানাচ্ছেন, নারীদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের জন্য স্ট্রেংথ ট্রেনিং বা ওজন তোলা অপরিহার্য। এটি কেবল পেশি ফোলানোর জন্য নয়, বরং হাড় ও হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

কেন আজ থেকেই নারীদের ওয়েট লিফটিং বা ভারী ওজন তোলার অভ্যাস শুরু করা উচিত?


১. প্রতিদিনের জীবনের শক্তির উৎস 

ভারী ওজন তোলা মানেই অলিম্পিকের প্রস্তুতি নয়। এটি আপনার রোজকার জীবনকে সহজ করে তুলবে। ভারী বাজারের ব্যাগ বয়ে নিয়ে আসা, এক টানা চেয়ার থেকে ওঠা-বসা বা ঘরের ভারী জিনিসপত্র সরানোর মতো কাজগুলো অনায়াসে করার শক্তি দেয় এই ট্রেনিং। এটি শরীরের জয়েন্ট ও মুভমেন্টকে এতটাই সচল করে যে, অল্প পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা চিরতরে দূর হয়।

 

২. হরমোন ও মেটাবলিজমের ভারসাম্য রক্ষা

৩০ বছর পেরোনোর পর থেকেই নারীদের শরীর থেকে প্রাকৃতিক নিয়মেই পেশির ঘনত্ব বা মাসল মাস কমতে শুরু করে। এর ফলে মেটাবলিজম (হজম করার ক্ষমতা) ঝিমিয়ে পড়ে। স্ট্রেংথ ট্রেনিং এই পেশি ক্ষয় রোধ করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। বিশেষ করে যাঁরা PCOS (পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম) বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য শারীরিক কসরতের সঙ্গে ওজন তোলা ওষুধের মতো কাজ করে।

৩. হাড়ের ক্ষয় ও অস্টিওপোরোসিস থেকে সুরক্ষা

নারীদের শরীরে হাড়ের রোগ, বিশেষ করে মেনোপজের (ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া) পর অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি। কুশল পাল সিংয়ের মতে, ওয়েট-বেয়ারিং এক্সারসাইজ বা ওজন তোলার ব্যায়াম হাড়ের পুনর্গঠনে উদ্দীপনা জোগায় এবং খনিজ পদার্থের ক্ষয় ধীর করে দেয়। ফলে মাঝবয়সেও হাড় থাকে লোহার মতো শক্ত।


৪. পুরুষালি নয়, আকর্ষণীয় চেহারা 

অনেক নারীই ভাবেন ওজন তুললে তাঁদের শরীর চওড়া বা পুরুষদের মতো পেশিবহুল হয়ে যাবে। এটি সম্পূর্ণ মিথ! নারীদের শরীরে পুরুষদের মতো পর্যাপ্ত ‘টেস্টোস্টেরন’ হরমোন তৈরি হয় না। তাই চাইলেও সহজে ওইরকম ভারী চেহারা হওয়া অসম্ভব। উল্টে ওজন তুললে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি গলে শরীর অনেক বেশি টোনড, টানটান এবং আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।


৫: আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি

যখন একজন নারী নিজের ক্ষমতার চেয়েও বেশি ভারী ওজন অনায়াসে তুলে ফেলেন, তখন শুধু শরীরের নয়, মনেরও ভোলবদল ঘটে। জিমের সেই আত্মবিশ্বাস প্রতিদিনের কাজের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই ওয়ার্কআউট স্ট্রেস কমায়, মন মেজাজ ফুরফুরে রাখে এবং ভেতরে এক লড়াকু মানসিকতা তৈরি করে।


তা কেমন হওয়া উচিত রুটিন? বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে মাত্র ২ থেকে ৩ দিন সঠিক ট্রেনার বা টেকনিক মেনে প্রোগ্রেসিভ ওভারলোড (ধীরে ধীরে ওজন বাড়ানো) পদ্ধতিতে স্ট্রেংথ ট্রেনিং করা উচিত।

(সতর্কীকরণ: এই প্রতিবেদনটি কেবলমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। যেকোনও নতুন ভারী ব্যায়াম বা ডায়েট শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।)