বাংলার ঘরে ঘরে এখন স্মার্ট মিটার বসানোর ধুম লেগেছে। অথচ নতুন এই প্রযুক্তিতে আনন্দের চেয়ে সাধারণ মানুষের চিন্তাই বেশি।
2
12
দেখা গিয়েছে, মোবাইল রিচার্জের মতো টাকা ফুরোলেই ঘরের বিদ্যুৎ বন্ধ- এই নতুন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে মধ্যবিত্তের রাতের ঘুম ওড়ার জোগাড়।
3
12
অনেকেরই অভিযোগ, ১০০ বা ২০০ টাকা রিচার্জ করলেই তা নাকি চোখের পলকে উধাও হয়ে যাচ্ছে! তবে কি নতুন মিটার বেশি জোরে ঘুরছে?
4
12
বিষয়টা বিদ্যুৎ চুরির বা মিটার দ্রুত ঘোরার নয়। প্রিপেড মিটারের হিসাব-নিকাশের অঙ্কটা একটু আলাদা।
5
12
অনেকেই জানেন না, স্মার্ট মিটারের একটা নিজস্ব নিত্যদিনের খরচ রয়েছে। আপনি যদি ঘর অন্ধকার করে, পাখা বন্ধ করে সপরিবারে বেড়াতেও যান, তবুও প্রতিদিন আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট কিছু টাকা কাটা যাবেই।
এর মধ্যেফিক্সড চার্জ, সরকারি বিদ্যুৎ কর, মিটার ভাড়া আছে।
6
12
ফলে, আপনি যখনই ১০০ বা ২০০ টাকার মতো ছোট অঙ্কের রিচার্জ করছেন, তখন রিচার্জের টাকার একটা বড় অংশই কেটে নেওয়া হচ্ছে এই দৈনিক বাঁধাধরা খরচ মেটাতে। ফলে আসল বিদ্যুৎ পোড়ানোর জন্য অবশিষ্ট টাকা আর বেশি থাকছে না।
7
12
সাধারণের সুবিধার্থে বিশেষজ্ঞরা একটা আনুমানিক হিসাব দিচ্ছেন। তবে মনে রাখবেন, বাড়িতে এসি বা গিজার চললে এই হিসাব খাটবে না।
8
12
১০০ টাকায়, ২ থেকে ৩ দিন। দৈনিক ৩-৪ ইউনিট খরচ হলে ফিক্সড চার্জ কাটার পর এই টাকা দ্রুত ফুরিয়ে যায়।
9
12
২০০ টাকায় ৫ থেকে ৭ দিন। কেবল আলো, পাখা, টিভি এবং ফ্রিজ চললে এই রিচার্জে সপ্তাহ খানেক চালানো সম্ভব।
10
12
৫০০ টাকায় ১৫ থেকে ১৬ দিন। মধ্যবিত্ত গৃহস্থালির জন্য এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয়। তবে এসি বা গিজার চললে এই হিসাব মিলবে না।
11
12
অনেকেরই অভ্যাস, ফুরিয়ে গেলেই ১০০ বা ২০০ টাকার টুকটাক রিচার্জ করা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে আখেরে লোকসানই বাড়ে।
12
12
তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো, মাসে এক বা দু’বারে একটু বড় অঙ্কের টাকা রিচার্জ করে নেওয়া।