শুনতে পাওয়ার সমস্যা বা হিয়ারিং লস একদিনে হঠাৎ করে হয় না। ধীরে ধীরে কানের ক্ষমতা কমতে থাকে, আর শরীর আগেই কিছু সতর্ক সংকেত দেয়। এই প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিনতে পারলে বড় সমস্যা এড়ানো সম্ভব।


এক্ষেত্রে প্রথম লক্ষণ হল, বারবার অন্যকে কথা রিপিট করতে বলা। যদি প্রায়ই 'কি বললে?' বা 'আবার বলো' বলতে হয়, তাহলে তা কানের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। অনেকেই এটিকে সাধারণ বিষয় ভেবে এড়িয়ে যান, যা হিয়ারিং লসের শুরুর লক্ষণ।


ভিড় বা বেশি শব্দের মধ্যে কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়াও শোনার ক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ। যেমন বাজার, বাস বা কোনও অনুষ্ঠানে আশেপাশে শব্দ বেশি থাকলে অন্যের কথা পরিষ্কার বোঝা যায় না। এতে অনেক সময় মনে হয় সবাই অস্পষ্টভাবে কথা বলছে, কিন্তু আসলে সমস্যা কানের।


টিভি বা মোবাইলের ভলিউম বাড়িয়ে দেওয়াও হিয়ারিং লসের লক্ষণ। যদি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি আওয়াজে টিভি বা গান শুনতে হয়, তাহলে তা কানের দুর্বলতার ইঙ্গিত হতে পারে।


এছাড়া কানে অদ্ভুত শব্দ শোনা যেমন বাজা, হিসহিস বা ঝিঁঝিঁর মতো আওয়াজও সতর্কবার্তা। এই সমস্যাকে টিনিটাস বলা হয়, যা কানের ভেতরের ক্ষতির লক্ষণ হতে পারে।


আরও একটি লক্ষণ হল, মানুষ ঠিকভাবে কথা বলছে না বা বিড়বিড় করছে মনে হওয়া। আসলে তখন কানের কিছু অংশ শব্দ ঠিকমতো ধরতে পারে না, বিশেষ করে উচ্চ স্বরের শব্দ।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লক্ষণগুলোকে অবহেলা করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। এতে শুধু শোনার ক্ষমতা কমে না, দৈনন্দিন জীবনে যোগাযোগেও সমস্যা তৈরি হয়। অনেক সময় একাকীত্ব ও মানসিক চাপও বাড়ে।


তাই এই ধরনের কোনও লক্ষণ দেখা গেলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সহজভাবে বললে, কান খারাপ হওয়ার আগে শরীর নিজেই সংকেত দেয়, শুধু সেই সংকেতগুলো বুঝে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।