বিউ সরকার: ক্ষমতায় এসেই জনগণের অভাব-অভিযোগের খতিয়ান নিতে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী। শপথ গ্রহণের পর পরই প্রতি সোমবার 'জনতার দরবার' আয়োজন করবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। চলতি মাসের ১ তারিখ পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের কারণে এক দিনের জন্য পিছিয়ে যায় 'জনতার দরবার'। প্রতিশ্রুতি মতোই সোমবারের পরিবর্তে মঙ্গলবার সল্টলেকে বিজেপির দপ্তরে 'জনতার দরবার'-এর আয়োজন করা হয়। সেখানেই এসেছিলেন এক অসুস্থ দম্পতি। তাঁদের সমস্যার কথা শুনে আগামী সাতদিনের মধ্যেই তা নিস্পত্তির আশ্বাস দিয়েছেনা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মঙ্গলবার জনতার দরবারে স্বামীকে কাঁধে নিয়ে সুন্দরবন থেকে আসেন স্ত্রী। বিশেষভাবে সক্ষম স্বামী সন্ন্যাসী মণ্ডলকে নিয়ে গোসাবা থেকে সল্টলেক নিয়ে আসেন। সন্নাসী চলৎশক্তিহীন। দীর্ঘদিন প্রাক্তন শাসক দলের একাধিক ছোটবড় নেতার কাছে যাতায়াতের সুবিধার জন্য একটি ব্যাটারি চালিত প্রতিবন্ধী গাড়ির জন্য দরবার করেছেন। তবে কোনও লাভ হয়নি। আজ 'জনতার দরবার'-এ এসে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কাছে তাঁরা একটি ইলেকট্রিক গাড়ি এবং সরকারি বাড়ির জন্য সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যা রসমাধান করা হবে। 

উল্লেখ্য, গত ১৮ মে থেকে বসে 'জনতার দরবার'। প্রথম দিনে সমাজের নানা স্তরের মানুষ এসে তাঁদের অভাব-অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। জনগণের বিপুল সাড়া  মেলে।  সাধারণ মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন সল্টলেকে বিজেপির দপ্তরে। 

এর আগে আরও এক অসহায় ব্যক্তি 'জনতার দরবার'-এ উপস্থিত হন। যার ফল মেলে হাতেনাতে। অসাধু প্রোমোটার চক্রের গ্রাসে পড়েছিলেন ভবানীপুরের বৃদ্ধ প্রবীর মুখার্জির পরিবার। এখন তাঁদের ঠাঁই  ভাড়া বাড়িতে। বার বার হকের ফ্ল্যাটের দাবি জানিয়ে জুটছিল হুমকি। বন্দুক দেখানোর হুঁশিয়ারির কথা মনে করে শিউরে উঠতেন ৮১ বছরের বৃদ্ধ। সরকারের বদল হওয়ায় আশায় বুক বাঁধেন প্রবীর। অভিযুক্ত প্রোমোটার জয় কামদারের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। তার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সক্রিয় হয় ইডি। প্রবীর মুখার্জির বাড়িতে যান ইডি-র আধিকারিকরা। জমির বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বৃদ্ধ ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যের। প্রোমোটারের সঙ্গে চুক্তির কাগজও খতিয়ে দেখেন ইডি আধিকারিকরা।