আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্বামীর কাছে মোমো খাওয়ার আবদার করেছিলেন স্ত্রী। মোমো কিনে না দেওয়ার কারণেই বউয়ের কাছে বেধড়ক মার খেয়ে মৃত্যু হল স্বামীর। এবার স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার স্বামী। থানায় অভিযোগ দায়ের করল পরিবার।
মৃত যুবকের নাম, অমিত দাস। ৩২ বছর বয়সি যুবক শহর কলকাতার চিৎপুর থানা এলাকার বাসিন্দার ছিলেন। অভিযুক্ত স্ত্রীর নাম, রেশমি দাস (২৮)। রাজা মণীন্দ্র রোড চাতালের বাসিন্দা তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দু'জনের বিয়ে হয় আজ থেকে ন'বছর আগে। আট বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে তাঁদের। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে অশান্তি ছিল। নানারকম দাবি করতেন তাঁর বউ। দাবি না মেটাতে পারলেই অত্যাচারের শিকার হতেন অমিত। অতীতেও একবার ভয়ঙ্কর অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন। অমিতকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন রেশমি। এমনটাই অভিযোগ তাঁর মা ও দিদির।
পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, তাঁদের বিয়ে হয় প্রেম করে, আজ থেকে ৯ বছর আগে। বউয়ের দাবি না মেটালেই অমিতের উপর শারীরিক নির্যাতন করা হত। ছোট আট বছরের ছেলেটিকেও মারধর করতেও বাদ দিতেন না রেশমি। এমনটাই অভিযোগ করেছেন অমিতের মা কাজল দাস (৫৮)। তিনি আয়ার কাজ করেন। বাবা পূর্বেই মারা গিয়েছেন। বাড়িতে অমিত, তাঁর বউ রেশমি, তাঁদের আট বছরের ছেলে এবং মা কাজল দাস থাকতেন।
কাজের সূত্রে বৃহস্পতিবার বেরিয়েছিলেন নাইট ডিউটিতে। আর শুক্রবার ভোররাত ২টো নাগাদ রেশমি মোমো খেতে চাইলে, অমিত আপত্তি জানান। মাঝরাতে মোমো পাওয়া যাবে না বলেও জানিয়েছিলেন অমিত। মোমো কিনে দিতে আপত্তি জানালে তখনই তাঁদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। এরপর অমিতকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন রেশমি। অমিতকে একের পর এক লাথি, কিল, ঘুষি। ছোট ছেলের সামনেই নৃশংসভাবে অত্যাচার করেন রেশমি।
আর এই মারধর করার পর হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অমিত। এরপর ঘণ্টা দুই অমিত পড়ে থাকার, প্রতিবেশীদের জানান রেশমি। তাঁর শাশুড়ি অর্থাৎ অমিতের মাকেও খবর দেন শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটের সময়। প্রতিবেশীরা এসে দেখেন অমিতের মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আরজিকর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবার এবং প্রতিবেশীদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালে নিয়ে আসার পরেই অমিতের বউ রেশমি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান পরিস্থিতি বেগতিক দেখে। এরপর স্থানীয় পুলিশকে (চিতপুর থানা) খবর দিলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অমিতের মৃতদেহকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় শুক্রবার সকালে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত অমিতের স্ত্রী রেশমিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর বাড়ি থেকে। পালিয়ে গিয়ে লুকিয়ে ছিল তাঁর নিজের বাড়িতে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী অমিতের শরীরে একাধিক আঘাতে চিহ্ন এবং শরীরের ভেতরের একাধিক অর্গান ড্যামেজ হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।
















