তীর্থঙ্কর দাস: ১০০৩ দিনে পা দিল এসএলএসটি নবম-দশম দ্বাদশ একাদশ শ্রেণী বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের অবস্থান বিক্ষোভ। ১০০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ধর্মতলার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে এই অবস্থান বিক্ষোভ করে আসছেন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা। দাবি একটাই, নিয়োগ দিতে হবে। হকের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে। তাঁরা ন্যায্য চাকরিপ্রার্থী। চাকরি বিক্রি হয়ে গিয়েছে তাঁদের এবং সেই চাকরি ফেরত পেতে মরিয়া।
মেধাতালিকাভুক্ত বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা একাধিকবার শিক্ষা দপ্তর থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা হয়ে ওঠেনি।
গান্ধী মূর্তির পাদদেশে এসএলএসটি চাকরিপ্রার্থীদের দুটো মঞ্চ রয়েছে। এক মঞ্চের নাম "বঙ্গীয় ন্যায্য প্রতিষ্ঠা মঞ্চ" এবং আরেকটি " এসএসসি যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চ "।
বঙ্গীয় ন্যায্য প্রতিষ্ঠা মঞ্চে ১০০০ দিনের মাথায় একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। এসেছিলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। ৯ ডিসেম্বর, শনিবার কুণাল ঘোষ তাদের সঙ্গে কথা বলে জানান যে ১১ ডিসেম্বর অর্থাৎ সোমবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাদের একটি বৈঠক হবে। সেই মত সোমবার বৈঠকও হয় এবং আগামী ২২ ডিসেম্বর পরবর্তী বৈঠকের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
অন্যদিকে এসএসসি যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চে ১০০০ দিনের মাথায় কোনও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দেখা মেলেনি। আসেনি তৃণমূলের পক্ষ থেকে কেউই। ডাকা হয়নি শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠকে। এই দুই মঞ্চের প্রত্যেকে একই সঙ্গে একই সময় পরীক্ষা দিয়েছেন এবং উত্তীর্ণও হয়েছেন।
দুই মঞ্চের মধ্যে এই বিভাজনের ফলে বঞ্চিত হতে হচ্ছে এক মঞ্চকে। যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের স্টেট কো-অর্ডিনেটর সুদীপ মন্ডল আজকাল ডট ইনকে জানালেন " এর থেকে দুঃখের কিছু হয় না। আমরা, এসএসসি যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চ ২০১৬ সালে ২৯ দিন কলকাতা প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন করেছিলাম। আমরা এসএসসি যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের ব্যানারে এই লড়াই শুরু করেছিলাম কিন্তু আমাদেরই কথা কেউ বলল না"।
সেই সময় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এসেছিলেন যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চে। ২০১৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও নিয়োগ দেওয়ার কথা জানান। সময় যত গড়িয়েছে তত বিক্ষোভের আঁচ শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আইনি জটিলতা টানাপোড়েনের মাঝে কেউ সফলতা পেলেন আর কেউ বঞ্চিতই রয়ে গেলেন। এযেন এক যাত্রায় পৃথক ফল।