আজকাল ওয়েবডেস্ক: ধর্মতলার ধরনামঞ্চে একদিকে যেমন নেতারা কটাক্ষ করছেন কেন্দ্রকে, তেমনই বাংলার মানুষের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হচ্ছেন, বিপদে-আপদে পাশে থাকার। ভোটের মুখে জনগণের সামনে, নিজেদের বক্তব্য একেবারে ধরনা মঞ্চ থেকে তুলে ধরার যে প্রয়াস তৃণমূলের, তা ভোট বাক্সে সদর্থক প্রভাব ফেলবে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

 

স্লোগান দিচ্ছেন নেতারা, 'যতই করো এসআইআর, এ বাংলা ফের মমতার'। উঠছে 'জয় বাংলা' স্লোগান। এসবের মাঝেই, তৃণমূলের যুব নেতা সুদীপ রাহা তুলে আনলেন সুব্রত গুপ্তর প্রসঙ্গ। শুধু টেনে আনলেন না, সুদীপ তাঁকে  যেন মিলিয়ে দিতে চাইলেন রাজ্যের এক সময়ের বাম জমানা এবং বর্তমান কেন্দ্রের বিজেপি জমানার যোগসূত্র হিসেবে। 

কীভাবে? 

আগে বলা যাক, সুব্রত গুপ্ত কে? 

১৯৯০ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার। নভেম্বর মাসে তাঁকেই বাংলার এসআইআর-এর বিশেষ রোল অবজার্ভার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। আচমকা তাঁকে নিযুক্ত করায় বাংলার রাজনীতিতে আলোচনা হয়েছিল। তবে তিনি সেসব উড়িয়ে বলেছিলেন, চান গোটা প্রক্রিয়া মিটুক সুষ্ঠভাবে। যদিও রাজ্যের শাসক দলের নেতা নেত্রীদের মুখে সুবত গুপ্তর নাম উঠেছে সম্প্রতি। এবার একেবারে  ধরনা মঞ্চ থেকে উঠে এল। 

তৃণমূলের যুব নেতা সুদীপ রাহা, শনিবার বক্তব্য রাখতে উঠে বেশ ঝাঁঝাল ভঙ্গীতেই গেরুয়া শিবিরকে পরপর  কটাক্ষ করেন। বলেন, 'বিজেপির নেতারা ফাঁকা রাস্তায় রথে, আর আমাদের নেত্রী জনসমুদ্রে  পথে, এটাই তফাৎ।' ২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল যে ২৫০-এর এবশি আসন পাবে, সেই প্রত্য যেমন লক্ষণীয়, তেমনই স্লোগান বেঁধে একেবারে বলেন, ২৬-এ বিজেপিকে নামাবে হবে ২৬ আসনের নীচে।

তারপরেই সুব্রত গুপ্তকে একহাত নেন সুদীপ। শনিবারের বক্তব্যে তিনি বলেন, 'নামটা ভাল করে লিখে রাখুন সুব্রত গুপ্ত। কে এই সুবত গুপ্ত নির্বাচন কমিশনকে জিজ্ঞাসা করুন। বাংলার মানুষের নাম বাদ দেওয়ার পিছনে এই সুব্রত গুপ্তর মুখোশ খুলতে হবে। বাংলার মানুষ সেই ,মুখোশ খুলবে' এখানেই শেষ নয়, বাম জমানার উল্লেখ করে বলেন, 'এই সুব্রত গুপ্তকে দিয়ে সিঙ্গুরের জমি দখল করিয়ে ছিল সিপিএম আজ বিজেপি সেই সুব্রত গুপ্তকে কাজে লাগিয়ে বাংলার লোকের নাম বাদ দিচ্ছে। চ্যালেঞ্জ করে বলছি, এই সুব্রত গুপ্তদের ফন্দি টিকবে না।'

এই সিঙ্গুর প্রসঙ্গ এমনিতেই ধরনার শুরুর দিন থেকেই চর্চায় বাংলার রাজনীতি সচেতন মানুষদের মনে। কারণ, ২০০৬ সালে, ঠিক দু'দশক আগে, মেট্রো চ্যানেলেই ধরনায় বসেছিলেন বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা তখন বিরোধী দলের নেত্রী। তবে ওই ধরনা থেকেই, ইঙ্গিত মিলেছিল বাংলার পাল্লাবদলের। ঠিক ২০ বছরের মাথায়, ২৬-এর ভোটের আগে একই জায়গায় ধরনা এমনিতেই ফিরিয়ে আনছিল সিঙ্গুর প্রসঙ্গ। সুব্রত গুপ্তর নাম যুক্ত হল সেই প্রসঙ্গেই।