আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ দুই দফায় প্রায় ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অবশেষে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরোলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির। ইডি সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের গোটা প্রক্রিয়াটি এবং অভিষেকের বয়ান দিল্লিতে ইডির সদর dপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। সেখানকার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার পরই তাঁকে ছাড়ার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়।
সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চেনা আগ্রাসী মেজাজে ধরা দেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, "যারা মানুষের স্বার্থে লড়াই করে, তারা কোনও চাপের কাছে মাথা নত করবে না, আত্মসমর্পণও করবে না। গলা কেটে দিলেও আমরা আত্মসমর্পণ করার লোক নই।"
অভিষেক ব্যানার্জি মনে করিয়ে দেন যে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির মুখোমুখি হওয়া তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়। তিনি বলেন, এর আগেও তিনি একাধিকবার তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজির হয়েছেন। দিল্লিতেও তাঁকে দু’বার তলব করা হয়েছিল এবং তিনি দু’বারই গিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১০-১২ বার হাজিরা দিয়েছেন। আজকেও তদন্তে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। ভবিষ্যতেও ডাকলে তিনি আবার আসবেন।
তবে তদন্তের আড়ালে যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। সরাসরি বিজেপির নাম না নিয়ে অভিষেক বলেন, "বিজেপিকে নিয়ে যত কম বলা যায়, ততই ভালো। গত এক মাস ধরে বিরোধী শক্তিকে ভয় দেখিয়ে, দুর্বল করে পশ্চিমবঙ্গকে বিরোধীশূন্য করার একটা ধারাবাহিক চেষ্টা চলছে। যারা মাথা নত করতে রাজি নয়, তাদের চুপ করিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে।" চক্রান্ত, ভাঙন, দল ভাঙানোর চেষ্টা বা সাংসদ-বিধায়কদের প্রভাবিত করার মাধ্যমে এই লড়াই থামানো যাবে না বলে দাবি করেন তিনি।
এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েও সুর চড়ান অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি, বিরোধী দলের কাউন্টিং এজেন্টদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং বলপ্রয়োগ করে গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
যে মামলায় তাঁকে তলব করা হয়েছে, সেটির গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক বলেন, "এফআইআর দায়ের হয়েছিল চার বছর আগে। আর সিবিআই এই মামলার তদন্ত শুরু করেছিল ২০২২ সালের জুন মাসে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ একাধিক গ্রেফতারি হয়েছিল। কিন্তু এতদিন পরেও মামলার কোনও নিষ্পত্তি হয়নি। অথচ তাঁরা কেউ আর এখন হেফাজতে নেই।"
নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন, "আমরা সবসময় চেয়েছি নিয়োগ প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব সম্পূর্ণ হোক এবং যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা তাঁদের প্রাপ্য চাকরি পান। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং মেধার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।" সব শেষে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন— চক্রান্ত করে তৃণমূলের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করা যাবে না, শেষ পর্যন্ত এই লড়াই জারি থাকবে।















