আজকাল ওয়েবডেস্ক: বড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে পাটুলি থানা এলাকা থেকে তিন জাল নোট কারবারীকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। উদ্ধার হয়েছে বিপুল জাল ভারতীয় নোট। এছাড়াও ধৃতদের জেরা করে শহরতলীর তেলঘরিয়া ও সোনারপুর অঞ্চলে অভিযান চালানো হয়। এতেই হদিশ মেলে জাল নোট তৈরির কারখানা ও সরঞ্জামের। সেখান থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয় বহুমূল্যের জাল নোটও।

পুলিশ জানিয়েছে, মোট ৯,২০০ টাকার জাল ভারতীয় নোট (৫০০ টাকার ১৪টি নোট, ২০০ টাকার ১০টি নোট, ১০০ টাকার ২টি নোট) উদ্ধার করা হয়েছে।

এই ঘটনায় ধৃত তিনজন হলেন নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত সোনারপুর অঞ্চলের বাসিন্দা অলোক নাগ ওরফে বাপি (৫৮), সোনারপুরের আরেক বাসিন্দা অয়ন নাগ ওরফে বিকি (৩৩) এবং খড়দহ থানার অন্তর্ভুক্ত টিটাগড়ের শ্যাম বাবু পাসওয়ান (৩৬)।

লালবাজার সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল থেকে এই তিনজনকে বুধবার বিকেল ৫.৫০ নাগাদ পাকড়াও করা হয়। বিএনএস-এর অধীনে ধৃতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়।

ধৃত অলোক, অয়ন ও শ্যাম বাবুকে জেরায় জাল নোট নিয়ে আরও তথ্য পায় এসটিএফ। এরপরই কলকাতা পুলিশের এসটিএফ-এর দলটি তেঘোরিয়া, রাজপুরে শ্যামল কুমার রায়ের বাড়ির নীচতলায় অবস্থিত অলোক নাগ ওরফে বাপি-র ভাড়া বাড়ি থেকে জাল ভারতীয় নোট তৈরির একটি কারখানা আবিষ্কার করে। সেখান থেকে ১৫,২০০ টাকার জাল ভারতীয় নোট (৫০০ টাকার ৮টি নোট, ২০০ টাকার ১৪টি নোট, ১০০ টাকার ৮৪টি নোট)-সহ বহু জিনিস উদ্ধার করা হয়।

বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে...

১. ৩টি স্ক্যানার-সহ কালার প্রিন্টার।

২. দু'টি সাদা কাগজ, যার প্রতিটিতে ১০০ টাকার তিনটি করে আসল ভারতীয় নোট লাগানো ছিল। 

৩. একটি সাদা পৃষ্ঠা, যার একপাশে ৫০০ টাকার তিনটি আসল ভারতীয় নোট এবং অন্যপাশেও ৫০০ টাকার তিনটি আসল ভারতীয় নোট লাগানো আছে।

৪. দু'টি সাদা পৃষ্ঠা, যার মধ্যে একটিতে ৫০ টাকার তিনটি আসল ভারতীয় নোট এবং অন্যটিতে ৫০০ টাকার তিনটি আসল ভারতীয় নোট লাগানো আছে।

৫. একটি সাদা পৃষ্ঠা, যাতে ৫০০ টাকা, ২০০ টাকা এবং ১০০ টাকার আসল নোট লাগানো আছে।

৬. ১০০ টাকা মূল্যমানের ৮৪টি জাল ভারতীয় নোট।

৭. ২০০ টাকা মূল্যমানের ১৪টি জাল ভারতীয় নোট।

৮. ৫০০ টাকা মূল্যমানের ৮টি জাল ভারতীয় নোট।

৯. বিভিন্ন মূল্যমানের জাল ভারতীয় নোটের বিপুল সংখ্যক রঙিন মুদ্রিত অসম্পূর্ণ কপি। (৫০০ টাকা, ২০০ টাকা, ১০০ টাকা এবং ৫০ টাকা)

১০. ৯টি ঝকঝকে সবুজ রঙের কলম।

১১. ২২,০০০ টাকা নগদ।  

ধৃতদের আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।