আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স ভারতের ক্রিকেট স্টেডিয়ামগুলির মধ্যে অন্যতম ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম। কিন্তু অনেকেই শুনলে অবাক হবেন, ইডেন গার্ডেন্সকে কেন্দ্র করে একাধিক ইতিহাস বা রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি এক অদ্ভুত ভুতুড়ে গল্পও প্রচলিত রয়েছে।
সম্প্রতি এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর সেই পুরনো গল্পটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা করায় তা ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তুলেছে। তাঁর দাবি, এক সময় ইডেন গার্ডেন্সের ম্যানুয়াল স্কোরবোর্ড ঘিরে রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছিল।
জানা যায়, ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড চালু হওয়ার আগে স্টেডিয়ামে বড় কালো বোর্ড ব্যবহার করা হত। সেই বোর্ডে হাতে হাতে ব্যাটারের নাম ও রান বসানো হত।
ম্যাচ চলাকালীন কর্মীরা সেখানেই স্কোর আপডেট করতেন। প্রচলিত গল্প বলে, ভারত ও ইংল্যান্ডের একটি ম্যাচের আগের দিন এক সাংবাদিক সম্মেলন হয়। সেই জন্য একজন সাংবাদিক স্টেডিয়ামে ঢুকে পড়েন।
তখনই তাঁর চোখ যায় ইডেনের স্কোরবোর্ডের দিকে। তিনি লক্ষ্য করেন, ম্যানুয়াল স্কোরবোর্ডে খেলা শুরু হওয়ার আগে থেকেই এক ভারতীয় ব্যাটারের লেখা রয়েছে।
সেখানে লেখা ছিল ‘তেন্ডুলকর’ এবং তাঁর স্কোরের পাশে লেখা ছিল তিন রান। পাশে লেখা ছিল ‘আউট’। জানা যায়, ওই সাংবাদিক প্রথমে বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি।
ভেবেছিলেন, কেউ হয়তো আগে থেকে এরকম করে রেখেছে বা হয়তো স্কোরবোর্ড পরীক্ষা করার জন্য এমনটা করা হয়েছে। কিন্তু পরের দিন ম্যাচ শুরু হলে অবাক করা ঘটনা ঘটে যা দেখে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
ম্যাচে শচীন তেন্ডুলকর ঠিক তিন রান করেই আউট হয়ে যান। ঘটনাটি সাংবাদিককে রীতিমত বিস্মিত করে ফেলে। এরপর আরও একটি ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।
পরবর্তী ইনিংসের আগে তিনি আবার স্কোরবোর্ডের দিকে তাকান। সেখানে আরও একজন ভারতীয় ব্যাটারের নাম লেখা ছিল আগে থেকেই। তাঁর স্কোরের পাশে লেখা ছিল চার রান।
ম্যাচ শুরু হওয়ার পরে সেই ব্যাটারও ঠিক চার রান করেই আউট হয়ে যান। এই ঘটনাও সাংবাদিককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। তিনি তখন স্টেডিয়ামের কয়েকজন পুরনো কর্মীর সঙ্গে কথা বলেন।
তাঁদের কেউ কেউ দাবি করেন, এই ধরনের ঘটনা আগে কয়েকবার ঘটেছে। বিশেষ করে ভারত ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের সময়। একজন প্রবীণ গ্রাউন্ডসম্যান নাকি তখন একটি অদ্ভুত ব্যাখ্যা করেন এই ঘটনা নিয়ে।
তাঁর দাবি, ইডেনের কাছেই একটি পুরনো কবরস্থান থেকে এক ব্রিটিশ সেনা আধিকারিকের আত্মা মাঝরাতে স্টেডিয়ামে আসে। তিনি নাকি স্কোরবোর্ডে গিয়ে ভারতীয় ব্যাটারদের স্কোর বদলে দেন।
কারণ হিসেবে জানানো হয়, ওই ব্রিটিশ আত্মা নাকি চান না ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভারতীয়রা ভাল খেলুক। যদিও এই কাহিনি আদৌ সত্যি কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
তবে বহু বছর ধরে এটি শহরের লোককথার অংশ হয়ে রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় গল্পটি প্রকাশ হওয়ার পর নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ বিষয়টিকে মজার ছলে নিয়েছেন। আবার কেউ রহস্য হিসেবে দেখেছেন।
একজন ব্যবহারকারী মজা করে প্রশ্ন করেন, ২০১৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে সেই ভূত কোথায় ছিল? উল্লেখ্য, সেই ম্যাচে কার্লোস ব্রেথওয়েট শেষ ওভারে বেন স্টোকসকে টানা চারটি ছক্কা মেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জিতিয়েছিলেন।
আরেকজন মন্তব্য করেন, যদি সেই ভূত বর্তমান সময়ে জন্মাত, তবে ড্রিম ইলেভেনের মতো ফ্যান্টাসি লিগে অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারত। যদিও ইডেনকে ঘিরে জড়িয়ে থাকা এই কাহিনির কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।
তবু কলকাতার ক্রিকেট সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইডেন গার্ডেন্সকে ঘিরে এই রহস্যময় কাহিনি আজও অনেকের মনে কৌতূহল জাগায়।
