আজকাল ওয়েবডেস্ক: তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউনের ভেঙে পড়ার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। বুধবার ঘটনার পর থেকেই লাগাতার চলছে উদ্ধারকাজ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রবল বৃষ্টির জেরে থমকে যায় উদ্ধারকার্য। আবহাওয়া একটু পরিষ্কার হতে ফের উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই, ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং ব়্যাডার।

ধ্বংসস্তূপের ভিতরে তিনজন শ্রমিত আটকে আছেন বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনাবাহিনী ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রবল বৃষ্টি এবং জমা জলের জন্য সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কংক্রিট ভার্টিকাল ড্রিল করে ভিতরে প্রবেশ করছে সেনাবাহিনী।

এখনও লোহার চাঁই ও কংক্রিটের নিচে কতজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। সারারাত ধরে চলার পর বৃহস্পতিবার সকালেও উদ্ধারকাজ জারি ছিল। কিন্তু দুপুরের পর থেকেই কলকাতার আকাশ জুড়ে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি, ঘন মেঘের অন্ধকার এবং মুহুর্মুহু বজ্রপাতের কারণে উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন উদ্ধারকারীরা।

জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১। আহতদের ভর্তি করা হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল থেকেই গোডাউনটির মূল লোহার কাঠামোটি অস্বাভাবিকভাবে নড়ছিল। সেই গলদ খতিয়ে দেখতে এবং কাঠামোটির অবস্থা পরীক্ষা করতেই ছাদের ওপরে ও নিচে জড়ো হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক।

আর ঠিক তখনই ঘটে যায় এই মারাত্মক দুর্ঘটনা। লোহার ভারী কাঠামোর নিচে মুহূর্তের মধ্যে চাপা পড়ে যান কর্মরত শ্রমিকরা। ভেতরের পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে আটকে থাকা মানুষদের বেঁচে থাকার আশা ও সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে বলে মনে করছেন উদ্ধারকাজে যুক্ত কর্মীরা।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাতে নামানো হয়েছে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, এনডিআরএফ (NDRF), সেনাবাহিনী এবং কলকাতা পুলিশকে। কংক্রিটের ও লোহার ভারী অংশ সরানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে হাইড্রোলিক এক্সকাভেটর এবং ব্রেকার মেশিন।

তবে দুপুরের পর নেমে আসা আচমকা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ সরাতে আর কতদিন সময় লাগবে, তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছে প্রশাসন। মৃত ও আহতদের পরিবারের জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আর্থিক সাহায্যও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অর্থ দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না, এটা স্বীকার করেও দায়িত্বশীল সরকার তার দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, নিহতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করবে রাজ্য সরকার। এর পাশাপাশি তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই সরকারের বিভিন্ন দপ্তর উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং ক্যাবিনেটের মন্ত্রীরা সহ সরকারের প্রতিনিধিরা প্রতি মুহূর্তে হাসপাতাল, উদ্ধারকার্য ও সমন্বয় বজায় রাখতে ময়দানে উপস্থিত রয়েছেন।

তারাতলার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার এক বার্তায় কলকাতার এই ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকেও এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।