আজকাল ওয়েবডেস্ক:  "একবার যদি বাবার দেখা পাওয়া যেত!"- চোখে জল আর গলায় আর্তি নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন এক তরুণী। গত ২৪ ঘণ্টা ধরে কলকাতা এবং শহরতলির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। সঙ্গে তাঁর স্বামী। 

নিখোঁজ বাবার সন্ধান পেতে থানা, হাসপাতাল আর দুর্ঘটনাস্থলের চত্বরে চত্বরে চক্কর কাটছেন এই দম্পতি। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ফিকে হচ্ছে আশা। বুক জুড়ে চেপে বসছে একরাশ আশঙ্কা।

নিখোঁজ ওই ব্যক্তির নাম স্বপন মণ্ডল। বাড়ি শ্যামনগরে। জানা গিয়েছে, একটু বেশি উপার্জনের আশায় এক ঠিকাদারের মাধ্যমে গত বুধবার প্রথমবার তারাতলার ওই গুদামে কাজে এসেছিলেন তিনি। অন্য দিন কাজ শেষে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই বাড়ি ফিরে যেতেন স্বপনবাবু। কিন্তু সেদিন নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্ত্রী ও মেয়ে।

পরে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে স্বপনবাবুর সহকর্মীদের কাছ থেকেই পরিবারটি জানতে পারে গুদাম ভেঙে পড়ার ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা।

খবর পেয়েই শ্যামনগর থেকে কলকাতায় ছুটে আসেন নিখোঁজ ব্যক্তির মেয়ে ও জামাই। প্রথমে বাসুদেবপুর থানা, সেখান থেকে তারাতলার দুর্ঘটনাস্থল এবং পরে এসএসকেএম হাসপাতাল- সর্বত্রই হন্যে হয়ে খোঁজ চালাচ্ছেন তাঁরা। 

শ্বশুরমশাইয়ের ছবি আর আধার কার্ড হাতে নিয়ে চেনা-অচেনা সবার কাছেই কাতর অনুরোধ জানাচ্ছেন জামাই। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও আশার আলো মেলেনি। এরই মধ্যে যুক্ত হয়েছে এক মানসিক যন্ত্রণা।

যুবতীর কথায়, "বাড়ি থেকে মা বারবার ফোন করছে। কিন্তু মাকে সত্যি কথাটা বলতে পারছি না। মা এমনিতেই বয়স্ক ও অসুস্থ, এই খবর শুনলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়বেন। তাই বাধ্য হয়ে মিথ্যা বলতে হচ্ছে যে, বাবা ভালো আছেন।"

তিনি আরও বলেন, "বাবা কোথায়, কেমন আছেন, শুধু কেউ একবার এসে এই খবরটুকু দিক। আমাদের আর কিচ্ছু চাওয়ার নেই।" 

প্রশাসন বা হাসপাতালের তরফ থেকেও এখনও কোনও সদুত্তর মেলেনি। থানা থেকে বলা হচ্ছে হাসপাতালে খোঁজ নিতে, আবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে এই নামের কাউকেই এখনও ভর্তি করা হয়নি। দুর্ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও, এক চরম অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের মধ্যে প্রহর গুনছে পরিবারটি।