আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোট গণনা শেষ। রাজ্যে ফলাফল প্রকাশ হতেই কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় একাধিক হামলার অভিযোগ সামনে আসছে। অভিযোগ, বিভিন্ন তৃণমূল পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হচ্ছে, আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকী বিভিন্ন জায়গায় বুলডোজার চালানো হচ্ছে। 

বুধবার এসব নিয়েই কড়া বার্তা দিলেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, "জেসিবি নিয়ে কোনও মিছিল করা যাবে না।" এমনকী যাঁরা জেসিবি ভাড়া দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এমনই হুঁশিয়ারি পুলিশ কমিশনারের। 

একইসঙ্গে তিনি বলেন, " বিজয় মিছিল করার ক্ষেত্রেও আগাম অনুমতি নিতে হবে"। কমিশনার অজয় নন্দা আরও জানিয়েছেন, জেলায় জেলায় এই বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করাও হয়েছে। পাশাপাশি, বাংলার সাধারণ মানুষ যাতে কোনওরকম গুজবে কান না দেন সেই বার্তাও দেন কমিশনার অজয় নন্দা৷

প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশ হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হিংসা ও অশান্তির খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিল নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে কোনও প্রকার আপস করা হবে না। অশান্তি ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য তিনি কড়া নির্দেশ জারি করেছেন।

সোমবার ফলপ্রকাশের পর রাত থেকেই রাজ্যের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হতে শুরু করে। ভাঙড়, বারুইপুর, হাওড়া এবং নানুর সহ একাধিক জায়গায় সংঘর্ষের খবর সামনে এসেছে। কোথাও তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে, আবার কোথাও শাসকদলের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে যখন রাজ্যের দুই প্রান্ত থেকে খুনের খবর আসে। এক দিকে যেমন তৃণমূলকর্মীর খুনের অভিযোগ উঠেছে, অন্য দিকে বিজেপিকর্মীকেও খুনের খবর মিলেছে। এই জোড়া খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর এখন চরমে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশ প্রধান এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে সর্বদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেলকেও সক্রিয় থাকতে বলেছেন। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁরা এলাকাভিত্তিক চব্বিশ ঘণ্টা নজরদারি চালিয়ে দ্রুত শান্তি ফেরানোর ব্যবস্থা করেন।

রাজনৈতিক মহলেও এই অশান্তি নিয়ে চলছে তরজা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অধিকাংশ হামলায় বিজেপি-কে অভিযুক্ত করা হলেও গেরুয়া শিবির সেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে আর্জি জানিয়েছেন যাতে প্রশাসন কোনও রাজনীতির রং না দেখে নিরপেক্ষভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অশান্তির ঘটনায় কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না এবং শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।