আজকাল ওয়েবডেস্ক: শহর কলকাতায় চিকিৎসক পড়ুয়াদের অমানবিক চিত্র এলো প্রকাশ্যে! আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক পড়ুয়াদের নির্যাতনের শিকার এবার স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, আরজিকর হাসপাতালের (LM Boys hostel) ললিত মোহন মেমোরিয়াল বয়েজ হোস্টেলের পড়ুয়াদের অত্যাচারের শিকার স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনায় একাধিক অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। ঘটনায় রীতিমতো হাতজোড় করে বাসিন্দাদের কাছে ক্ষমা চায় আর জি কর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক তাপস প্রামানিক।
কলকাতা আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ললিত মোহন মেমোরিয়াল বয়েজ হোস্টেল এ ডাক্তারি ছাত্ররা পড়াশোনার কারণে সেখানে থেকেই পড়াশোনা করেন। বলাবাহুল্য, এই বয়েজ হোস্টেলের বয়সও নিতান্ত কম নয়। বহু বছরের স্মৃতি বহন করছে কলকাতা আর জি কর মেডিকেল কলেজের এই বয়স হোস্টেল। কিন্তু বিগত বেশ কিছু বছর আনুমানিক বছর ৩ বা তার বেশি সময় ধরে এই হোস্টেলের চিকিৎসক পড়ুয়ার দিনে দুপুরে, কিংবা মধ্যরাত্রে উচ্চস্বরে বক্স বাজিয়ে গান বাজনা, মদ খাওয়া এবং সঙ্গে অশালীন ও অমানবিক আচরণ। সঙ্গে কুরুচিকর মন্তব্য ছুঁড়ে দেওয়া ও মদ খেয়ে তার উচ্ছিষ্ট বা কাঁচের বোতল ছুঁড়ে ফেলা বয়েজ হোস্টেল সংলগ্ন বেলগাছিয়ার বাসিন্দাদের ওপর। এমন ধরনের ভয়ংকর অভিযোগ তুলেছে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, আরও গুরুত্ব আরো অভিযোগ গত বৃহস্পতিবার দুপুর বেলা বিস্ফোরক জাতীয় কিছু জিনিস বেলগাছিয়া এল এম বয়েজ হোস্টেল সংলগ্ন বস্তিতে ছুড়ে ফেলা হয়, যা আসে হোস্টেলের তিনতলা জানলা থেকে। আর তৎক্ষণাৎ তা বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনায় যথেষ্ট আতঙ্কিত হয় স্থানীয়রা। সেখান দিয়েই যাচ্ছিলেন তিন বছরের শিশু তার মায়ের সঙ্গে। ঘটনায় যথেষ্ট আতঙ্ক ছড়ায়। এই নিয়ে গুরুতর অভিযোগ এনেছে সেই শিশুর মা হেমলাত সাউ।
আতঙ্কিত স্থানীয়দের অভিযোগ :
এই ঘটনায় আমাদের সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধা অভিযোগ জানিয়ে বলেন, "আমরা ভয় পাচ্ছি। রীতিমত আতঙ্কে বসবাস করি। দিনে কখনো রাতে কিংবা মধ্যরাতে উচ্চস্বরে গানবাজনা, নোংরা ভাষায় গালাগালি এবং মদ্যপ অবস্থায় মদের বোতল ও কাঁচ ছুড়ে ফেলে আমাদের দিকে। সর্বদা আমরা এই অত্যাচারের শিকার হই। আগে ওই ধরনের বহুবার ঘটনা হয়েছে, আমরা অভিযোগ করেছি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু কোন ফল হয়নি। বেশ কিছুদিন ধরে এই ঘটনা আরও বেড়ে গিয়েছে। আমরা ওদের কি ক্ষতি করেছি? ভবিষ্যতের চিকিৎসক তাঁরা। আর তারাই যদি এই কাজ করে তাহলে কার উপরে ভরসা রাখব? এইভাবে তবে চিকিৎসক হবে!"
এই ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দা, হেমলতা সাউ আমাদের সংবাদ বন্ধ হয়ে মুখোমুখি হয়ে বলেন, "আমি আমার ছোট্ট তিন বছরের ছেলেটিকে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। সেই সময় বিস্ফোরক জাতীয় কিছু ছুড়ে ফেলে এবং সঙ্গে সঙ্গে চকলেট বোম এর মত বিস্ফোরণ হয়। আমি তৎক্ষণাৎ কোনওক্রমে ছেলেকে নিয়ে সরে আশাতে বেঁচে গেছি। আমার থেকে ভাই আমার ছোট ছেলেটার। ওর ওপরে যদি পড়তো তাহলে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখন দেখি তারা কি করে, পুলিশকে জানাবো। খুবই আতঙ্কে আছি আমরা।"

হেমলতা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আরোও বলেন, "তারা মেডিকেল স্টুডেন্ট বলে অর্থাৎ ভবিষ্যতের চিকিৎসক বলে তাদের কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে সুরক্ষা রয়েছে, রয়েছে সুরক্ষা বলয়। আর আমরা গরিব বলে আমাদের কোন সুরক্ষা নেই। এভাবে কতদিন চলবে? খুবই আতঙ্কে আছি আমরা।"
নাগরিকদের অভিযোগ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মন্তব্য :
এই ঘটনায় প্রশ্ন করা হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং বয়েজ হোস্টেলের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক তাপস প্রামাণিক বলেন, "এই সমস্যা আজ থেকে নয়, ২০২৪ সালে আমি দায়িত্বে এসেছি তখন থেকেই এটা দেখে আসছি। এর আগেও এই ঘটনা ঘটেছে শুনেছি আমি আসার আগে। দিনে দিনে ক্রমাগত বাড়ছে। গত পরশুদিন যা ঘটেছে তা খুবই লজ্জাজনক। তিন বছরের শিশুর মা আমার কাছে এসে রীতিমত কান্নাকাটি করেছে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। আমি তাদের জানিয়েছি সময় নিয়েছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং প্রিন্সিপাল মানস বন্দ্যোপাধ্যায় ও এমএসডিপি সপ্তর্ষি চ্যাটার্জিকে কে সবটা জানিয়েছি। যদিও এমএস ভিপি অসুস্থ রয়েছেন। হাসপাতালে 'ডিন স্যার' ও প্রিন্সিপাল স্যারের সঙ্গে মিটিং করেছি। আমি চেষ্টা করছি যাতে ফেন্সিং অর্থাৎ জাল দিয়ে ঘেরাও করে দেওয়া যায়। পূর্বেও ৩৫ টি সিসিটিভি লাগানোর কথা হয়েছিল কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগ কোনরকম কোন গুরুত্ব দেয়নি। আবারো লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি, যাতে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি মেডিকেল স্টুডেন্টদের এ ধরনের অমানবিক ঘটনার কারণে ও নাগরিকদের অভিযোগ নিয়ে।"
চিকিৎসক তাপস প্রমাণিক আরো বলেন, "আমি ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি আমার পুরনো চেষ্টা করব যাতে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে না ঘটে। তবে এরপরেও যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে তাহলে কঠিন থেকে কঠিন আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য থাকব। যাতে পুলিশ প্রশাসন ও কঠিন ব্যবস্থা নেয় সেই ব্যবস্থা নেওয়ার পথেই হাঁটবো।"

উল্লেখযোগ্য বিষয়, পড়ুয়া চিকিৎসক যারা ভবিষ্যতের চিকিৎসক হতে চলেছেন তারাই যদি এমন অমানবিক কাজকর্ম করে চলেন এবং তাদের ব্যবহারের কারণে স্থানীয়রা যদি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, তাহলে নাগরিক কাদের উপরে ভরসা করবে। তাই নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন! এমন অমানবিক চিত্র যা নাগরিক সমাজের ভরসা ও সুরক্ষা নিয়ে বারংবার প্রশ্নের মুখে প্রশাসন ও চিকিৎসা সমাজ।
