আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডাকঘরের মতো সরকারি ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানের অন্দরেই কোটি কোটি টাকার প্রতারণা। চাঞ্চল্যকর তথ্যের পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশ। যাদবপুর থানা এলাকার রিজেন্ট এস্টেট পোস্ট অফিসকে কেন্দ্র করে প্রায় ৮.৫১ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেন ওই পোস্ট অফিসের তৎকালীন পোস্ট মাস্টার।

পুলিশ সূত্রে খবর, রিজেন্ট এস্টেট পোস্ট অফিসের প্রাক্তন পোস্ট মাস্টার দিলীপ কুমার জানা (৫৯)-কে গতকাল সন্ধ্যায় আলিপুরের গোপাল নগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভুয়া ডাক এজেন্টের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সর্বস্ব লুট করেছেন তিনি।

 কীভাবে চলত প্রতারণার চক্র?
তদন্তে উঠে এসেছে, সিদ্ধার্থ করঞ্জাই নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় ডাক বিভাগের অনুমোদিত এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিত। পোস্ট মাস্টারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তিনি অভিযোগকারী অভিজিৎ মজুমদার-সহ একাধিক গ্রাহককে তাদের মেয়াদপূর্ত Fixed Deposit-এর টাকা তুলে ‘পুনঃবিনিয়োগের’ নামে অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে বাধ্য করেন। এরপর সেই টাকা আর ফেরত আসেনি। অভিযোগ, এইভাবেই প্রায় ৩.৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য জাল পোস্ট অফিস পাসবুক ও সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়।

 তদন্তকারী পুলিশের সূত্রে খবর, ভারতীয় ডাক বিভাগের নিয়ম ভেঙে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণায় সাহায্য করেছেন অভিযুক্ত পোস্ট মাস্টার।
দক্ষিণ ডিভিশন, কলকাতার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পোস্ট অফিসেস-এর দপ্তর থেকে সংগৃহীত নথি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে। লালবাজার পুলিশ জানিয়েছে, পোস্ট মাস্টারের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এই বিপুল আর্থিক প্রতারণা সম্ভবই ছিল না।


এই  মামলায় ভুয়ো ডাক এজেন্ট সিদ্ধার্থ করঞ্জাইকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বর্তমানে বিচারাধীন হেফাজতে রয়েছে। তদন্তে তার জেরাতেই পোস্ট মাস্টারের নাম সামনে আসে। রিজেন্ট পার্ক ও নেটাজি নগর এলাকার বহু সাধারণ মানুষ এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রুজু হয়েছে।

লালবাজার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী মোট প্রতারিত অর্থ: প্রায় ৮.৫১ কোটি টাকা, ভুক্তভোগীর সংখ্যা: আনুমানিক ২৫ জন, আদালতে তোলা হচ্ছে অভিযুক্তকে, গ্রেপ্তার হওয়া প্রাক্তন পোস্ট মাস্টারকে এদিন শনিবার আদালতে পেশ করা হয়।  বিশ্বাসের মুখোশ পরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্ত চলছে, আরও বড় চক্র সামনে আসতে পারে বলেই আশঙ্কা পুলিশের।