আজকাল ওয়েবডেস্ক: ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নার অনুমিত মিলেছিল মঙ্গলবারই। একদম শেষে অনুমতি না মেলায় মঞ্চ বাধার সময় পাওয়া যায়নি। মঞ্চ ছাড়া ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের প্রতিটি বিধায়ককে পুলিশ দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। তৃণমূল কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। দিল্লি থেকে কলকাঠি নেড়ে তৃণমূল ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে। 

কর্মী-সমর্থকদের চিৎকারের মাঝেই মমতা বলেন, “আমাদের বিধায়ক, কাউন্সিলরদের ভাঙিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বিধায়কদের পুলিশকে দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। আপনারা ভয় পাবেন না।”

এরপরেই তৃণমূল নেত্রী বলেন, “আমাকে আটকাতে পারবেন না। ১৭৭টি আসনে ভোটলুট হয়েছে। সংবিধানের প্রতিটা শব্দ রক্ষা করব। অত্যাচার যাঁরা করছেন, যতক্ষণ না গণতান্ত্রিকভাবে এর মোকাবিলা করতে পারছি ততক্ষণ লড়াই করে যাব।” তিনি বলেন, “জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হাটাকে যায়েঙ্গে (যদি বেঁচে থাকি বিজেপি-কে সরাবই)।’’

ধর্নাস্থলের টানাপোড়ে প্রসঙ্গে রাজ্য প্রশাসনকে তোপ দেগে মমতা বলেন, “বারবার বলা হয়েছিল যদি জায়গা পাল্টাতে হয় তাহলে আগে থেকে জানাতে। পাঁচ দিন আগে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। আপনারা ওয়াই চ্যানেলে করতে বললেন। আমার কোনও অসুবিধা নেই, আমার প্রোগ্রাম করা নিয়ে হল কথা। পুলিশ ওয়াই চ্যানেলে করার অনুমতি দিয়েছে। সঙ্গে শর্ত দিয়েছে যে, সেনার অনুমতি নিতে হবে, সাউন্ডের অনুমতি নিতে হবে। অর্থাৎ, শব্দ বাজানোয় একটি নির্দিষ্ট দলের উপর নিষেধাজ্ঞা। দেখতে চাই অন্য দলকে অনুমতি দেন কি না। রানি রাসমনি রোডে, ধর্মতলায়, মেয়ো রোডে। যদি অনুমতি না দেন, তাহলে যে কোনও জায়গায় বসে পড়ব। আমি লোক দেখিয়ে প্রোগ্রাম করি না।”

ওয়াই চ্যানেলে ধর্নাস্থলে মমতা ব্যানার্জি। ছবি: ফেসবুক।

ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে রানি রাসমনি অ্যাভিনিউতে ধর্নার ডাক দিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু পুলিশ সেখানে অনুমতি না দিয়ে ওয়াই চ্যানেলে ধর্নার অনুমতি দেয়। মঙ্গলবার দুপুর ২টো নাগাদ মমতা কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমেই পৌঁছে যান রেড রোডে। সেখানে বিআর অম্বেডকরের মূর্তিতে মালা দেন মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, অসীমা পাত্রেরা। তার পর সেখান থেকে সোজা চলে যান ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূলের ধর্নামঞ্চে।

মমতার সঙ্গে ছিলেন শোভনদেব চ্যাটার্জি, নয়না ব্যানার্জি, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ ব্যানার্জি, ফিরহাদ হাকিম, অশোক দেবের মতো পুরনো তৃণমূল নেতারা। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরাও। কয়েকদিন আগে দলনেত্রীর ডাকা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না বেশিরভাগ বিধায়ক। তাই ধর্না কর্মসূচিতে কত লোক হবে তা নিয়ে সন্দিহান ছিল তৃণমূলে। দলের ফেসবুক হ্যান্ডল থেকে কর্মীদের ওয়াই চ্যানেলে সমবেত হওয়ার ডাকও দেওয়া হয়েছিল। এদিন ধর্নাস্থলে মমতা পৌঁছনোর পরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন কর্মী-সমর্থকরা।