দীক্ষা ভুঁইয়া: পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া একাধিক বিতর্কিত ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিধানসভায় তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং একাধিক ক্ষেত্রে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হবে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের সৌজন্যনগরে কালীপুজোর সময় কালীমূর্তি ভাঙচুরের ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গাফিলতি ছিল। সেই ঘটনার জন্য তৎকালীন সুন্দরবন পুলিশ জেলার আইপিএস অফিসার কোটেশ্বর রায়কে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
মুখ্যমন্ত্রী নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জন শোভাযাত্রার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, বিসর্জনের দিন ভক্তদের উপর অকারণে লাঠিচার্জ করা হয়েছিল এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ অযৌক্তিক বলপ্রয়োগ করেছিল। এই ঘটনার জন্য দায়ী বলে অভিযোগ ওঠা ইন্সপেক্টর অমলেন্দু বিশ্বাসকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত (ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিংস) শুরু হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে একাধিক ঘটনায় পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সব অভিযোগ এখন একে একে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেসব ক্ষেত্রে প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে গাফিলতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা আইন প্রয়োগে পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত মিলছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং প্রশাসনে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা। কোনও পুলিশ আধিকারিক বা সরকারি কর্মী যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন না করে থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি ফৌজদারি মামলাও রুজু করা হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কারণ, যেসব ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি পূর্ববর্তী সরকারের আমলের বহুল আলোচিত ঘটনা এবং সেই সময় পুলিশি ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের তরফে একাধিকবার প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপে সেই অভিযোগগুলির প্রশাসনিক পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত মিলছে।
















