আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতায় প্রতারণা চক্রে ফের বিহার সহ একাধিক রাজ্য যোগ। বিশ্বস্ত সূত্র ও ‘প্রতিবিম্ব’ পোর্টাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কলকাতার পঞ্চসায়র থানা এলাকায় একটি ভুয়ো দেশীয় কল সেন্টারে হানা দিয়ে বড়সড় প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখা। অভিযানে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা দীর্ঘদিন ধরে একটি গোপন কল সেন্টার চালিয়ে সারা দেশের সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছিলেন। ফোন কল ও হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে নিজেদের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি বা আধিকারিক পরিচয় দিয়ে প্রতারণা চালানো হত। বিশেষ করে ‘ভারত ফার্টিলাইজার স্টোরস অফ ইন্ডিয়া’ নামে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হত।
কলকাতা পুলিশের সাইবার প্রতারণা দমন শাখা তদন্ত করতে গিয়ে সেই তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা Bharatfertilizerstores.online নামে একটি নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে সেটিকে আসল সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইট হিসেবে প্রচার করতেন। সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের কাছে ওই লিঙ্ক পাঠিয়ে আস্থা অর্জন করা হত। এরপর লাভজনক ব্যবসায়িক সুযোগ ও চুক্তির আশ্বাস দিয়ে প্রাথমিক বিনিয়োগের নামে টাকা আদায় করা হত।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণার অর্থ নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করিয়ে পরে তা দ্রুত অন্য ভুয়ো অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলা হত, যাতে টাকার হদিশ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, কুমার গৌরব (২৬), এম. বিনয় (৩০), চি. সঞ্জয় (২১), পি. তরুণ কুমার (২১) এবং বি. সূরজ (২১)। এদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশে, বাকিরা খড়গপুর এলাকার বাসিন্দা।
অভিযান চলাকালীন ধৃতদের কাছ থেকে ৮টি কী-প্যাড মোবাইল, ৯টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও স্ক্রিনশট উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ঘটনায় কলকাতা সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ধৃতদের আজ বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করা হবে। তবে পুলিশ সূত্রে আরও খবর, তদন্তের গতি আরও বাড়ানো হয়েছে এবং খতিয়ে দেখা হচ্ছে এই চক্রের পিছনে আরও কারা যুক্ত আছেন। আদালতে পেশ করে তাঁদের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে, যাতে আগামীতে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চক্রে আরও কেউ যুক্ত আছেন কিনা সেই সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়।
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “ব্যবসায়িক প্রস্তাবের নামে কেউ অর্থ দাবি করলে আগে সংস্থার সত্যতা যাচাই করুন। সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক বা অর্থ লেনদেন থেকে বিরত থাকুন। প্রকৃতভাবে তথ্য যাচাই না করে কোনও অবস্থাতে বিশ্বাস করবেন না এবং এইভাবে অনলাইনে যাচাই না করে টাকার লেনদেন কখনওই করবেন না।”
ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে আরও কড়া নজরদারি প্রয়োজন।
