আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতার জনপ্রিয় রেট্রো ডাইন-ইন ক্যাফে ‘চ্যাপ্টার টু’-তে ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হল অশোক মুখোপাধ্যায়ের লেখা বাংলা বই ‘এক নম্বর আকাশগঙ্গা’-এর ইংরেজি অনুবাদিত বই ‘নম্বর ওয়ান আকাশগঙ্গা লেন’। অনুবাদ করেছেন জেনিথ রায়। বছর দুই আগে দে’জ প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হওয়া বাংলা উপন্যাস ‘এক নম্বর আকাশগঙ্গা’য় লেখা আছে ভারতের গিগ কর্মীদের কথা। যাঁরা বাড়ি বাড়ি খাবার কিংবা অন্যান্য জিনিস ডেলিভারি দেন, অথবা বাইক ট্যাক্সির মত কাজে যুক্ত, তাঁদের জীবনযাপন, সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা, স্বপ্ন ও ভাঙাচোরা বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে লেখা এই উপন্যাস। অনুবাদের মাধ্যমে বইটি এখন বৃহত্তর পাঠকমহলের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ পেয়েছে— শুধু বাংলা ভাষাভাষী নয়, সারা দেশের এবং আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছেও।
উপন্যাসটির কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনীতি এবং সেই অর্থনীতির ‘অদৃশ্য নায়ক’রা। ব়্যাপিডো চালক, খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া ডেলিভারি কর্মী। এই মানুষগুলির জীবন বাইরে থেকে যতটা সহজ ও যান্ত্রিক মনে হয়, ভেতরে তা ততটাই জটিল। অ্যাপের নির্দেশে ছুটে চলা এই কর্মীরা প্রতিদিন শহরের অজস্র অলিগলি, ফ্ল্যাটবাড়ি, অফিসপাড়া ঘুরে বেড়ান। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে তৈরি এই উপন্যাসকে নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী গৌতম ঘোষ বলেন, “উপন্যাসটা নিয়ে সুন্দর ছবি তৈরি করা যাবে। গোটা ভারতের আর্থসামাজিক অবস্থানটা তুলে ধরা যাবে। হয়তো কোনও কিছু ডেলিভারি করতে একজন ঢুকে পড়লেন কোনও বস্তি এলাকায়। আবার তার পরের ডেলিভারিটা হয়ত হল অনেক উচ্চবিত্তের ঘরে।” লেখকের কাছে তিনি উপন্যাসটি নিয়ে একটি চলচ্চিত্র তৈরি করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন।
জেনিথের অনুবাদ কেবল ভাষান্তর নয়, বরং সংস্কৃতিরও সেতুবন্ধন। শহুরে বাংলা জীবনের সূক্ষ্মতা, কথ্য ভাষার রস, শ্রমজীবী মানুষের টানাপোড়েন, সব কিছুকে ইংরেজি ভাষায় যথাযথভাবে ধরে রাখার চেষ্টা এই অনুবাদে স্পষ্ট। অনুবাদের ফলে বইটি এখন গিগ অর্থনীতি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে।

বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, গৌতম ঘোষের পাশাপাশি অরিন্দম শীল, শুভাপ্রসন্ন ও সুবোধ সরকারের মতো দিকপাল মানুষেরা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে বিশ্বব্যাপী গিগ কর্মীদের কথা। অরিন্দম শীল সমবেদনা প্রকাশ করেন বলেন, “আমরা এই কর্মীদের দেখে নাম ধরেও ডাকার প্রয়োজন বোধ করি না। জোম্যাটো? সুইগি? ব্লিঙ্কিট? এভাবে ডাকি। নাম ধরে ডাকার সৌজন্যটুকুও নেই আমাদের।”
শিল্পীর চোখে শুভাপ্রসন্ন বলেন, “ছবির মতো উপন্যাস।” লেখকের চোখে সুবোধ সরকার বলেন, “বিদেশে বসে ছেলে, দেশে একা বেঁচে থাকা বাবার জন্য খাবার অর্ডার করে দেন, উবর বুক করে দেন। একে সমুদ্র বলব না তো কী বলব? এই সমুদ্রে মাছ ধরতে যান গিগ কর্মীরা। দিনের শেষে চারটে পয়সা উপার্জনের জন্য।”
অ্যাপের নির্দেশে ছুটে চলা, অলিগলি, ফ্ল্যাটবাড়ি, অফিসপাড়া ঘুরে বেড়ানো, এই কর্মীদের নিজেদের জীবনের ঠিকানা? নিরাপত্তা? সামাজিক স্বীকৃতি? ‘এক নম্বর আকাশগঙ্গা’ এই প্রশ্নগুলিই তোলে। ‘নাম্বার ওয়ান আকাশগঙ্গা লেন’ সেই প্রশ্নকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে পৌঁছে দেয়।
