আজকাল ওয়েবডেস্ক: জমি জালিয়তির অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার সোনা পাপ্পু ও ব্যবসায়ী জয় কামদার। শ্রীঘরে এই মামলার অন্যতম চক্রী কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। এবার জয় কামদারের প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে মুখ্যমন্ত্রীর 'জনতার দরবার'-এ ভবানীপুরের ৮১ বছরের বৃদ্ধ। প্রোমোটারির নামে জমি হাতিয়ে আর ফ্ল্যাট দেওয়া হয়নি বৃদ্ধকে। বার বার বলেও লাভ হয়নি। উল্টে, ব্যবসায়ী জয় কামদার তাঁকে কীভাবে বন্দুর বার করে ভয় দেখিয়ে ফ্ল্যাট না দেওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছেন সেই অভিযোগই শুভেন্দু অধিকারী সামনে তুলে ধরবেন ড. প্রবীর বিশ্বাস, চাইবেন সুরাহা।
সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে সোমবার বসেছে মুখ্যমন্ত্রীর 'জনতার দরবার'। সেখানেই এসেছেন প্রবীর বাবু। তিনি বলেন, "আমার বাড়ি ভবানীপুরের টাউনসেন্ড রোডে। আমরা আমাদের পৈতৃক ভিটে প্রমোটারকে দিয়েছিলাম। চেয়েছিলাম ফ্ল্যাট দেবে আমাদের। প্রমোটার যে বিক্যাত শয়তান জয় কামদার বুঝতে পারিনি। আর ছিলেন, পুলিশ অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও সোনা পাপ্পুও। ওরা আমাদের সুন্দর করে বুঝিয়ে জমি নিয়েছিল। সব লিখিতও ছিল। কিন্তু, ফ্ল্যাট আর পাইনি। যতবারই গিয়েছি জয় কামদার অফিসে সে আর দেওয়ার গা করেননি। শেষে বন্দু দেখিয়েছিল। আমাকে হুমকি দেওয়া হয় যাতে আমি আর ফ্ল্যাট না চাই। আমাদের থেকে ১৭ লাখ টাকাও দাবি করে।"
বৃদ্ধের দাবি, "আমি এখন ভাড়া বাড়িতে থাকি। আর ক'দিনই বা বাঁচব। এখন তাই চাইছি শেষ বয়সে যাতে নিজের বাড়িতে তাকতে পারি মুখ্যমন্ত্রী তার সুব্যবস্থা করে দিন।"
জমি জালিয়াতি মামলায় ইডির হেফাজতে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, সোনা পাপ্পু, জয় কামদার। ইতিমধ্যে এই তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। ইডি সূত্রে খবর, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও জয় কামদার জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ।
শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে কোটি টাকার ঘড়ি উপহার করেছিল ব্যবসায়ী জয় কামদার। তথ্য, জয় কামদার শান্তনু ও তাঁর পরিবারে সদস্যদের উপহার পাঠাতেন। কী সম্পর্ক ছিল তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে ইডি।
এই দামি ঘড়ি উপহার থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক যে লেনদেন সম্পর্কিত একাধিক তথ্য হাতে পেয়েছে ইডি সেই সমস্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সঠিকভাবে কোনও উত্তর দেয়নি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও জয়কমদার, সূত্রের তথ্য তেমনটাই। জিজ্ঞাসাবাদে অসহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে।
যেহেতু দুজনের তদন্ত এবং জিজ্ঞাসাবাদে অসহযোগিতা করছেন।পাশাপাশি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস জোর করে জমি হাতিয়ে নিতেন, অভিযোগ তেমনটাও। যদিও, এই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে তাঁকে নথি দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, সেই সমস্ত প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন বারেবারে।















