আজকাল ওয়েবডেস্ক: রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জুড়ে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। মূলত নবাগত পড়ুয়াদের ভর্তি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই গোলমাল এখন এক রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। একাধিক সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক এই অশান্তির পেছনে রয়েছে বড়সড় এক রাজনৈতিক দলবদলের খেলা। অভিযোগ উঠছে, আগে যারা শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের (টিএমসি) প্রথম সারিতে ছিল এবং যাদের বিরুদ্ধে অতীতে ভর্তি দুর্নীতিসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, তাদের একটি বড় অংশ রাতারাতি বিরোধী শিবিরে (এবিভিপি) নাম লিখিয়েছে। এই দলবদলু ছাত্ররাই এখন ক্যাম্পাসে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, এই দুই শিবিরের ক্ষমতার লড়াইয়ের জেরে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, ক্যাম্পাসের ভেতরে একে অপরকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়াছুড়ির মতো ঘটনাও ঘটেছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নতুন ভর্তি হতে আসা (ইউজি ওয়ান বা ফ্রেশার্স) ছাত্রছাত্রীরা। প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দিয়েই এমন হিংসাত্মক পরিবেশ দেখে তাঁদের মনে স্বাভাবিকভাবেই একটা ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিরোধী বাম ছাত্র সংগঠনের (এসএফআই) হেল্পডেস্ক ভাঙচুর করা, কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া এবং তাদের পতাকা খুলে নেওয়ার মতো অগণতান্ত্রিক ঘটনাও সামনে এসেছে। সাধারণ পড়ুয়াদের অভিযোগ, পুরনো "দাদাগিরি ও মারপিটের কালচারই" এখন শুধু নতুন ব্যানারের তলায় নতুন করে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য (ভিসি) না থাকায় প্রশাসনিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেই ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ পড়ুয়ারা। ইতিহাস বিভাগের গবেষক শুভজিৎ সরকার বলেন, প্রতিটা ক্যাম্পাসে সব ধরণের মতামত বিরাজ করুক, তারপর নির্বাচনের সময় ছাত্রছাত্রীরাই বেছে নিক তাদের পছন্দের সংগঠনকে। যারা জয়ী হবে তারা ইউনিয়ন চালাবে, আর যারা পরাজিত হবে তারা বিরোধী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র বজায় থাকার পক্ষে সওয়াল করে তিনি আরও জানান, এই কঠিন সময়ের মধ্যেও তাঁদের সংগঠনের কর্মীরা হাল ছাড়েনি। ডিম ছোড়াছুড়ির মতো অশান্ত পরিবেশের মধ্যেও নবাগতদের সহায়তায় তাঁরা হেল্পডেস্ক চালু রেখেছেন এবং সাধারণ পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে ভালো কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।