আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঈদে এবার রাস্তায় কোনও যানজট হয়নি— রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেছেন যে, আমাদের দেশে সারাবছরই কোনও না কোনও উৎসব চলতে থাকে। কিন্তু উৎসবের কারণে রাস্তা আটকে রাখলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। তাই উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সবকিছু স্বাভাবিক রাখাও অত্যন্ত জরুরি এবং সরকার এবার সেই ব্যবস্থাই করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দলবদলের হিড়িক নিয়ে মমতা ব্যানার্জির 'গিরগিটি' কবিতা লেখার বিষয়টিকে তীব্র খোঁচা দিয়েছেন এই বিজেপি নেতা। তিনি কটাক্ষ করে বলেন যে, তিনি তো আগেই মমতা ব্যানার্জিকে বাড়িতে বসে কবিতা লেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। মমতা ব্যানার্জির উচিত নিজের এই প্রতিভাকে আরও শান দেওয়া, কারণ আগামী দিনে তৃণমূল দলটা যখন পুরোপুরি উঠে যাবে, তখন কবিতা লেখার জন্য তিনি আরও অনেক বেশি সুযোগ ও সময় পাবেন।
এদিকে, 'ভালো ও খারাপ তৃণমূল' নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য এবং তা নিয়ে দলের ভেতরের আলোচনা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানান, দলের রাজ্য সভাপতি কোন পরিপ্রেক্ষিতে এই কথা বলেছেন তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে তাঁর ব্যক্তিগত মত হল, তৃণমূলের কাউকে এখন বিজেপিতে নেওয়া একদমই উচিত হবে না। তিনি মনে করিয়ে দেন, একসময় বিজেপির কর্মীরা ভয়ে দলের নাম পর্যন্ত নিতে পারত না। যারা মন থেকে বিজেপিকে সমর্থন করেও স্রেফ ভয়ের কারণে রাস্তায় নেমে রাজনীতি করতে পারেনি, এখন দলের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের দেখাশোনা করা। তৃণমূলের লোকেদের এভাবে দলে নিতে থাকলে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হবে না। তাই এখন কোনও তাড়াহুড়ো না করে, ঘোলা জল একটু থিতিয়ে গেলে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে তিনি মনে করেন।
পাশাপাশি, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম দেওয়া নিয়ে যে জটিলতা ও টালবাহানার অভিযোগ উঠছে, তা নিয়ে দিলীপ ঘোষ আশ্বস্ত করে বলেন যে, সব বিষয়েরই একটা নির্দিষ্ট নিয়ম ও সরলীকরণ প্রয়োজন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাকে ইচ্ছে তাকে তো ফর্ম দিয়ে দেওয়া যায় না, কারণ এতে দেখা যাবে বাংলাদেশিরাও এসে এই সুবিধা নিয়ে চলে গেছে। শুরুতে জিএসটি নিয়ে যেমন অনেক জটিলতা ছিল এবং পরে তা ঠিক হয়ে গেছে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ক্ষেত্রেও সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সবশেষে, দীপঙ্কর বাদুড়িয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে পার্থ চ্যাটার্জির প্রসঙ্গ টেনে দিলীপবাবু তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে খোঁচা দেন। তিনি বলেন, মানুষের কাছে এখন এত টাকা রাখার জায়গা নেই। সবাই তো আর পার্থ বাবুর মতো আলিশান ফ্ল্যাট কিনে টাকা লুকিয়ে রাখতে পারেনি, যদিও শেষরক্ষা হয়নি এবং পার্থ বাবুও টাকা বাঁচাতে পারেননি। আইন সবার জন্যই সমান এবং যারা এভাবে বেআইনি টাকা রাখছেন, তাদের সবার ব্যবস্থাই একে একে হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি।















