বিউ সরকার: আগামী ১৬ জুলাই রথযাত্রা। কলকাতায় ৫৫ তম রথযাত্রার আয়োজন করা হবে। এবারের রথ যাত্রার থিম ভারতীয় ভূমি ও মন্দির সংস্কৃতির ঐতিহ্য। তার আগেই প্যান্ডেলের থিম এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক বিষয়ে ঘোষণা ইসকন কলকাতা শাখার চেয়ারম্যান অনঙ্গ মোহন দাস।
অনঙ্গ দাস আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিরুপতি মন্দিরের আদলে এ বার প্যান্ডেলের থিম করা হবে। পূর্বতন সরকারের আমলে যেমন রথযাত্রা উদ্বোধন করতেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে সরকার বদলের পর এ বার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রথযাত্রার উদ্বোধন করবেন। আগামী ১৬ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী রথের রশিতে টান দিয়ে রথযাত্রার সূচনা করবেন।
এ দিন অনঙ্গ দাস আরও জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে ১৫০টিরও বেশি দেশে চার হাজারের বেশি স্থানে এ বছর রথযাত্রা পালিত হচ্ছে। ১৬ জুলাই রথযাত্রার দিন সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আসবেন। দুপুর ১২টা নাগাদ ইসকন কলকাতা মন্দির থেকে রথযাত্রা বেরোবে। উদ্বোধনের পর অ্যালবার্ট রোডের ইসকন মন্দির থেকে রথযাত্রার সূচনা হবে। সেখান থেকে হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট, এজেসি বোস রোড, শরৎ বোস রোড, হাজরা রোড, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রোড, এক্সাইড ক্রসিং, জওহরলাল নেহেরু রোড, আউটরাম রোড হয়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছবে রথ। আগামী ২৩ শে জুলাই পর্যন্ত ময়দানে থাকবে রথ।
চেয়ারম্যান জানান, ১৬ জুলাই বেলা সাড়ে তিনটি থেকে প্রসাদ মিলবে। জগন্নাথ দেবের রথের উচ্চতা হবে ৩৮ ফুট।বলরামের রথের উচ্চতা ৩৬ ফুট। বর্তমানে রথে সুখোই ৩০ যুদ্ধবিমানের শক্তিশালী চাকা ব্যবহার হয়। এর আগে বোয়িং ৭৪৭ বিমানের চাকা ব্যবহার হত। রথ যাতে ভাঁজ করা যায় এমন নকশা ও মজবুত লোহার চাকার তৈরি ব্যবহার করা হবে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় যথাযথ বাধা না হয় সেই জন্য থাকবে ফোল্ডিং ব্যবস্থা।
এর পর, ২৩ শে জুলাই উল্টোরথে আবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে জহরলাল নেহেরু রোড হয়ে এসপ্ল্যানেড ক্রসিং, এজেসি বোস রোড, মৌলালি ক্রসিং, ফিলিপস মোড়, আনন্দ পালিত, পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট, সৈয়দ আমির আলী এভিনিউ হয়ে কলকাতা ইসকন মন্দিরে আসবে রথ। রাশিয়া, জাপান, আমেরিকা-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে ভক্তরা আসবেন। গত বছর ৩০ লক্ষ লোক রথযাত্রার অনুষ্ঠানে ভিড় করেন। এবারের রথে হিন্দু মুসলমান-সহ নানা সম্প্রদায়ের মানুষই থাকবেন।
















