আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার রাতে রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনের গ্রেপ্তারির পর উল্টে পুলিশকেই আক্রমণ করে বসলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
তাঁর অভিযোগ, এতদিন ধরে যে অভিযুক্ত প্রশান্ত পলাতক ছিলেন তার দায় পুলিশেরই। তিনি বলেন, 'পুলিশ তো কাউকেই খুঁজে পায় না। তাদের সঙ্গে সন্ধ্যেবেলা বসে খায়, আর বলে পাচ্ছি না খুঁজে। শুধু এখানে নয় মেদিনীপুরেও। তো পুলিশের অভ্যাস পাল্টাতে হবে। না হলে পাবলিক পাল্টে দেবে। পাবলিক যেভাবে অ্যাগ্রেসিভ হয়ে বেরিয়ে আসছে; এরপর কে বাঁচাবে? পুলিশের সাবধান হওয়া উচিত।'
তাঁর অভিযোগ, 'এতদিন ধরে পুলিশ যে ব্যবহার করেছে তাতে এমনিতেই সাধারণ মানুষ ক্ষেপে রয়েছে। পুলিশ নিজের দায়িত্ব পালন করুক। না হলে জনরোষের হাত থেকে কেউ কাউকে বাঁচাতে পারবে না।'
প্রশান্ত বর্মনের গ্রেপ্তারির পর রাজ্যের মন্ত্রী জানান, 'আপনারা বুঝতে পেরেছেন কেন এই অফিসাররা বিগড়েছে?? সে ওসি হোক, আইসি হোক, বিডিও হোক এসডিও হোক!'
দিলীপের অভিযোগ, 'এদের খারাপ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। তারা ধীরে ধীরে সেটাই স্বাভাবিক মনে করেছেন। বেআইনিটাকে আইনি মনে করা, নিজের অধিকার ফলিয়ে সবটা নেওয়া। এখন তো অন্তত ঠিক হওয়া উচিত। না হলে এদের সবকটাকে গ্যারেজ করতে হবে, অথবা আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।'
উল্লেখ্য, দত্তাবাদের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত, রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন অবশেষে পুলিশের জালে।
দীর্ঘদিন ধরে ফেরার থাকার পর, কলকাতার সল্টলেক ও নিউ টাউন লাগোয়া এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে একজনকে ধাক্কা মারার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন এই সরকারি আধিকারিক।
তাঁর খোঁজে রাজগঞ্জ বিডিও অফিসের সামনে ‘নিখোঁজ’ পোস্টারও পড়েছিল। অবশেষে কোনও আদালত বা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ নয়, বরং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি নিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার সময় তিনি সম্পূর্ণ মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। ব্যবসায়ী খুনের মতো গুরুতর মামলার প্রধান অভিযুক্ত এভাবে ধরা পড়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে।















