আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার একাধিক দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন অভিযান কর্মসূচি নিয়েছেন আশা কর্মীরা। ফলে সকাল থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর। সেখানে জিআরপি-র বিরুদ্ধে তাদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাধা পেয়ে শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরেই তারা বসে পড়েন। এর জেরে কাজের দিনে শিয়ালদহ স্টেশনে যাত্রী ভোগান্তি চরমে ওঠে।
মালদহ থেকে বেলদা—রাজ্যের নানা স্টেশনের চিত্র ছিল প্রায় একই। অভিযোগ, বহু জায়গায় ট্রেনে ওঠার আগেই আশা কর্মীদের আটকানো হয়। আর যাঁরা কোনওভাবে ট্রেনে চড়তে পেরেছিলেন, তাঁদের শিয়ালদহে পৌঁছে স্টেশনেই আটকে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি উঠেছে।
গত সপ্তাহেই বেতনবৃদ্ধি-সহ মোট আট দফা দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন অভিযান করেছিলেন আশা কর্মীরা। সেই দিন দুপুরের ব্যস্ত সময় কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল স্বাস্থ্য ভবন চত্বর। তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ—অনেক গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য দায়িত্ব কাঁধে থাকলেও মাসিক আয় অত্যন্ত কম। বর্তমানে ইনসেনটিভ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫,২৫০ টাকার বেশি মজুরি দেয় না সরকার, অথচ কাজের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ।
সেই কারণেই ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক পারিশ্রমিকের দাবি তুলেছেন আশা কর্মীরা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ চালুর দাবিও রয়েছে তাদের তালিকায়। তাঁদের বক্তব্য—সরকার একদিকে ব্রেস্ট ফিডিং-সহ মাতৃস্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার বার্তা দিতে বলে, অথচ নিজেরাই মাতৃত্বকালীন ছুটি দেন না। এমনকি কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারও কোনও আর্থিক সহায়তা পায় না।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে। ব্যারিকেড বসানো হয় এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু বুধবার সকালে বিভিন্ন জেলা থেকে কলকাতায় পৌঁছেই আশা কর্মীরা যখন আটকে যান, তখন স্টেশনের ভেতরেই অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে পুলিশের নিরাপত্তা কড়া হয়েছে। সেখানে বিনা অনুমতিতে কোনও গাড়িকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি যারা স্বাস্থ্য ভবনে প্রবেশ করছেন তাদেরকে নিজেদের পরিচয়পত্র দেখাতে হচ্ছে। এদিকে আশাকর্মীদের বিক্ষোভের জেরে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ এলাকাতেও।
