আজকাল ওয়েবডেস্ক: পর্যটনস্বর্গ হিসেবে পরিচিত থাইল্যান্ডের ফুকেট দ্বীপে ফের একবার পর্যটকদের বেপরোয়া আচরণ ঘিরে তীব্র বিতর্ক। প্রকাশ্যে, যানজটে আটকে থাকা একটি টুক্টুকের ভিতরে তিন পর্যটকের আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৯ জানুয়ারি, ফুকেটের ব্যস্ত পর্যটন এলাকা পাতং হিলের কাছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যানজটে দাঁড়িয়ে থাকা একটি টুক্টুকের ভিতরে দুই পুরুষ ও এক নারী প্রকাশ্যেই অশালীন আচরণে লিপ্ত ছিলেন। আশপাশে অসংখ্য গাড়ি, বাইক এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত থাকলেও তারা কোনও তোয়াক্কা করেননি।
একজন মোটরসাইকেল আরোহী সোমচাই সিরিরাত ওই মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করেন। তিনি বলেন, “আমি টুকটুকটির ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ভেতরে প্লাস্টিকের পর্দা থাকলেও সবকিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। ট্রাফিকের কারণে আমি সরে যেতে পারিনি। তাই প্রমাণ হিসেবে ভিডিওটি রেকর্ড করি।” তাঁর কথায়, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে ভেবে তিনি প্রতিবাদ করতেও সাহস পাননি। পরে বাড়ি ফিরে পুলিশে অভিযোগ জানান।
ভিডিওতে দেখা যায়, টুক্টুকের ভিতরে মদের গেলাস হাতে বসে থাকা দুই পুরুষ ও এক মহিলা অশালীন ভঙ্গিতে আচরণ করছেন। ট্রাফিক সিগন্যাল সবুজ হতেই টুকটুকটি চলতে শুরু করলে ঘটনাটি আপাতত থেমে যায়।
&t=2sপুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টুকটুক চালক ও যাত্রীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ফুকেট পুলিশের কর্নেল কোরাক্রিত খান্থাক্রুয়া বলেন, “ভিডিওতে প্রকাশ্যে অশালীন কাজের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করা গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনসমক্ষে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে যেখানে পরিবার ও শিশুদের চলাচল থাকে।”
থাইল্যান্ডের আইনে প্রকাশ্যে অশালীন আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৫,০০০ বাত জরিমানা হতে পারে।
এই ঘটনা নতুন নয় বলেই দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের অভিযোগ, পর্যটকদের একাংশ নিয়ম-কানুন তোয়াক্কা না করে এমন আচরণ করে চলেছেন, যা দ্বীপের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি করন এলাকায় একই রকম ঘটনায় এক পর্যটক যুগল টুকটুকের পিছনে আপত্তিকর আচরণে জড়িয়েছিলেন। তখনও চালকের বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তাঁরা হোটেলে পৌঁছন।
ফুকেটের বাসিন্দারা এখন পুলিশের কাছে কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সামাজিক শালীনতা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা তার থেকেও বেশি জরুরি।
