গত পাঁচ বছরে দেশে দুই লক্ষেরও বেশি বেসরকারি সংস্থা বন্ধ হয়ে গেছে—এই তথ্য সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় তুলে ধরল কেন্দ্র সরকার। সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫, কর্পোরেট বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা একটি লিখিত উত্তরে জানান, ২০২০-২১ অর্থবর্ষ থেকে চলতি অর্থবর্ষের ১৬ জুলাই পর্যন্ত মোট ২,০৪,২৬৮টি বেসরকারি সংস্থা কার্যত বন্ধ হয়েছে।
2
8
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সংস্থা বন্ধ হয়েছে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে, যেখানে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩,৪৫২। তার আগে ২০২১-২২ সালে ৬৪,০৫৪টি সংস্থা বন্ধ হয়। পরবর্তী সময়ে এই সংখ্যা কিছুটা কমলেও ধারাবাহিকভাবে বন্ধের প্রবণতা বজায় থাকে—২০২৩-২৪ সালে ২১,১৮১টি এবং ২০২৪-২৫ সালে ২০,৩৬৫টি সংস্থা বন্ধ হয়েছে। কোভিড মহামারির প্রথম বছরে, অর্থাৎ ২০২০-২১ সালে, বন্ধ হয়েছিল ১৫,২১৬টি সংস্থা।
3
8
মন্ত্রী জানান, এই সংস্থাগুলি বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংস্থার সংযুক্তিকরণ, কাঠামোগত রূপান্তর, স্বেচ্ছায় বন্ধ করে দেওয়া অথবা কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ২০১৩ অনুযায়ী নাম কেটে দেওয়া। অর্থাৎ, সব ক্ষেত্রেই যে সংস্থাগুলি আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়—বরং বহু সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার পর আইনি ভাবে বন্ধ হয়েছে।
4
8
একই সঙ্গে সরকার জানিয়েছে, নিষ্ক্রিয় ও সন্দেহজনক সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে গত পাঁচ অর্থবর্ষে মোট ১,৮৫,৩৫০টি সংস্থার নাম সরকারি রেজিস্টার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে, ১৬ জুলাই পর্যন্ত, এই সংখ্যা ৮,৬৪৮। সবচেয়ে বড় অভিযান চালানো হয়েছিল ২০২২-২৩ সালে, যখন একাই ৮২,১২৫টি সংস্থাকে রেজিস্টার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
5
8
শেল কোম্পানি ও অর্থপাচারের প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, “শেল কোম্পানি” শব্দটির কোনও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা কোম্পানিজ অ্যাক্টে নেই। তবে তিনি জানান, এ ধরনের সংস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ সামনে এলে তা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ও আয়কর দপ্তরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়, এবং ভবিষ্যতে এই সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।
6
8
সংস্থা বন্ধ হওয়ার ফলে কর্মহীন হওয়া কর্মীদের পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সরকার জানায়, এই বিষয়ে বর্তমানে কোনও পুনর্বাসন পরিকল্পনা বিবেচনাধীন নেই। এই বক্তব্য ঘিরে বিরোধী শিবিরে প্রশ্ন উঠেছে- এত বিপুল সংখ্যক সংস্থা বন্ধ হলেও কর্মীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার বিষয়টি কেন নীতিগত আলোচনার বাইরে রয়ে গেল।
7
8
এদিকে শিল্প বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে পিছিয়ে পড়া বা গ্রামীণ এলাকায় কর ছাড় দেওয়ার দাবি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সরকার ধীরে ধীরে কর ছাড় ও বিশেষ ছাড়পত্রের নীতি থেকে সরে এসে কর হারকে সরল ও যৌক্তিক করার পথেই এগোচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কর্পোরেট কর কমানো, নিয়ম সরল করা এবং ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ উন্নত করার মতো সংস্কারের মাধ্যমেই বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করার ওপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।
8
8
সব মিলিয়ে সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের কর্পোরেট পরিসরে একদিকে যেমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভিযান চলছে, তেমনই অন্যদিকে সংস্থা বন্ধ হওয়া ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা দেশের অর্থনীতির গভীরতর প্রশ্নগুলো সামনে এনে দিচ্ছে।