আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হল। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (critical minerals) বিষয়ক প্রথম মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকের আগেই এই সাক্ষাৎ হয়, যা দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই বৈঠকে জয়শঙ্কর ও রুবিও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের অনুসন্ধান, খনন ও প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। বৈদ্যুতিক যান, নবীকরণযোগ্য শক্তি ও উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজের ক্ষেত্রে চিনের উপর নির্ভরতা কমানোর প্রশ্নে ভারত-আমেরিকা সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

মার্কিন বিদেশ দপ্তরের প্রধান উপ-মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, মার্কো রুবিও এবং এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, দুই দেশের নেতৃত্ব এই বিষয়ে একমত যে গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত ও আমেরিকার একসঙ্গে কাজ করা নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং যৌথ জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।

&t=2s

পিগট আরও বলেন, বৈঠকের শেষে দুই নেতা কোয়াডের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের মতে, সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলই দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠক নিয়ে নিজেও বক্তব্য রেখেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তিনি লেখেন, এই আলোচনা ছিল বহুমাত্রিক ও বিস্তৃত। ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু উঠে আসে আলোচনায়। জয়শঙ্করের কথায়, ভারত-আমেরিকা কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতায় বাণিজ্য, শক্তি, পরমাণু সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। তিনি জানান, যৌথ স্বার্থ এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার অধীনে শিগগিরই বৈঠক আয়োজনের ব্যাপারে দুই দেশ একমত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্য চুক্তির পর এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ভারত ও আমেরিকা সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ক্রমশ অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও কৌশলগত নিরাপত্তার গভীর স্তরে প্রবেশ করছে।