আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাটার জুতো আমরা সকলের পায়ে দিয়ে থাকি। তবে কেউ কী জানেন বাটা কোথাকার প্রতিষ্ঠান। শুনলে অবাক হয়ে যাবেন। বাটার তৈরি করা জুতো গোটা ভারতবর্ষে নিজের নামের সঙ্গে ব্যবসা করছে। তবে এটি কিন্তু ভারতীয় প্রতিষ্ঠান নয়। বাটা একটি চেক ব্র্যান্ড। এর হেডকোয়ার্টার রয়েছে সুইৎজারল্যান্ডে।

 


তবে প্রতিটি দেশ যাদের দেশে বাটার তৈরি জুতো বা অন্য সামগ্রী কিনতে পাওয়া যায় তারা কিন্তু মনে করেন বাটা তাদের নিজের দেশের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে এটাই বাটা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার প্রধান টিপস। যার ফলে এরা বিশ্বের প্রতিটি দেশে নিজের ব্যবসা রমরমিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে।


১৮৯৪ সালে চেকোশ্লাভাকিয়াতে বাটার প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে তৈরি হয়। এরপর থেকেই নিজের সুনাম পেতে থাকে বাটা। এই দেখে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এই নীতি নিয়ে নেন। তিনি প্রতিটি দেশে বাটাকে প্রমোট করেন। প্রথম থেকেই এই প্রতিষ্ঠানের জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি ছিল যে সব দেশ একে নিজের দেশের প্রতিষ্ঠান হিসাবে মনে করত।


বাটা এরপর বিশ্বের প্রতিটি দেশে নিজের নামে আলাদা আলাদা করে কারখানা তৈরি করে। সেখানে স্থানীয় কারিগর দিয়ে তারা কাজ করতে থাকে। তৈরি হয়ে যায় বাটার বড় বড় কারখানাও। সেখানে কাজ করতে আসেন বহু স্থানীয় কারিগর। বাটা এরপর সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় অর্থনীতি, ঐতিহ্য এবং ভাষার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেবে। তাই স্কুল, হাসপাতাল এবং অন্যত্র নিজের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে।

 


কলকাতায় বাটানগরে বাটার প্রথম কারখানাটি তৈরি করা হয়েছিল। পাটনাতে বাটাগঞ্জেও বাটা নিজের কারখানা তৈরি করে। প্রতিটি জায়গায় বাটা নিজের সুনামের সঙ্গে কাজ করেই এগিয়ে যেতে থাকে। তবে শুধু ভারতেই নয়, পাকিস্তানেও রয়েছে বাটাপুর, নেদারল্যান্ডে রয়েছে বাটাড্রপ, কানাডাতে রয়েছে বাটাওয়া। প্রতিটি দেশই বাটাকে নিজের মনে করে আপন করে নিয়েছে।


বাটার আরও একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল তারা প্রতিটি দেশের প্রধান ভাষাগুলিকে আপন করে নিয়েছিল। সেই তালিকায় বাংলা, হিন্দি, ফরাসি, সার্বিয়ান, জার্মান রয়েছ। ফলে স্থানীয় ভাষায় বাটাকে সকলকে কাছে টেনে নিয়েছে। আজও বাটা এই সুনামের সঙ্গে প্রতিটি দেশে ব্যবসা করে চলেছে। বাটার জুতো পায়ে দিতে সকলেই পছন্দ করেন।