আজকাল ওয়েবডেস্ক: যৌন কল্যাণ শিক্ষাদানকারী সংস্থা ওয়ানটেস্টের প্রতিষ্ঠাতা নিকোল ডেডোন এবং তাঁর সহযোগী র্যা চেল চেরউইটজ নিজেরাই দোষী সাব্যস্ত হলেন যৌন কর্মকাণ্ডে ফেঁসে গিয়ে। কর্মীদের জোর করে যৌন কর্মকাণ্ডে বাধ্য করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করেছে ফেডারেল জুরি। পাঁচ সপ্তাহের বিচার পর্ব শেষে জুরি দু’দিনের মধ্যেই রায় ঘোষণা করে। দুই অভিযুক্তের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
২০০৪ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে প্রতিষ্ঠিত ওয়ানটেস্ট মূলত যৌন কল্যাণ এবং মানসিক সুস্থতা নিয়ে কোর্স ও রিট্রিট চালাত। এই সংস্থায় মূলত মানুষকে বহুদিন ধরে চলা ট্রমা থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত। তবে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের দাবি, এই প্রতিষ্ঠানটি আসলে তার কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ঠকিয়ে, মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করিয়ে এবং অনেককে বিনা সম্মতিতে যৌন কর্মকাণ্ডে জড়াতে বাধ্য করত। সাক্ষীরা জানিয়েছেন, অনেকেই নিজেদের ‘ব্রেইনওয়াশড’ মনে করতেন এবং চাকরি যাওয়ার ভয়ে প্রতিষ্ঠানটির কথামতো সবকিছু করতেন।
এখানেই শেষ নয়, প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম মূল আর্থিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে একাধিকবার সঙ্গম করতে বাধ্য করা হত বলে অভিযোগ উঠে আসে। ২০১৮ সালে একটি ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে ওয়ানটেস্টের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলির কথা প্রথম প্রকাশ্যে আসে। ২০২৩ সালে ফেডারেল প্রসিকিউটররা আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করেন। বিচার শেষে ব্রুকলিনের মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেল্লা জুনিয়র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ডেডোন ও চেরউইটজের মুখোশ খুলে গেছে। তারা আসলে প্রতারক, যারা যৌন কল্যাণ ও মানসিক সুস্থতার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অসহায় মানুষদের ঠকিয়েছে’। ডেডোন ও চেরউইটজ দু’জনই রায় ঘোষণার সময় নিজেদের আইনজীবীদের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন এবং জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তাঁদের সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর।
















