আজকাল ওয়েবডেস্ক: শহুরে জীবনে সকালে ঘুম থেকে উঠে জানলা দিয়ে তাকালে বড়জোর কাক-পায়রা কিংবা রাস্তার কুকুর নজরে পড়ে। কিন্তু ভেনিজুয়েলার কারাকাস শহরের 'লা লাগুনিটা' এলাকার বাসিন্দারা যা দেখলেন, তাতে তাঁদের পিলে চমকে যাওয়ার জোগাড়! রাস্তার ধারের এক্কেবারে সরু একখানা নোংরা জলের ড্রেনে শুয়ে আছে এক বিশাল কাইম্যান— সহজ ভাষায় বলতে গেলে যা আমাদের চেনা কুমিরেরই মাসতুতো ভাই। লম্বায় প্রায় দেড় মিটার (সাড়ে পাঁচ ফুট)!
আবাসিক এলাকার ঠিক যে ড্রেনটায় আটকে ছিল, তার গা ঘেঁষেই পার্ক করা ছিল একটা রুপোলি রঙের এসইউভি গাড়ি। অর্থাৎ, একটু অসাবধান হলেই যে কেউ ওটার মুখে পড়তে পারতেন। সরু কংক্রিটের ড্রেনের দেওয়ালে আটকে পড়ে বেচারা কাইম্যানের নড়াচড়া করার উপায় ছিল না। তবে চিল চিৎকার আর মানুষের ভিড় দেখে সে-ও বেশ চটে গিয়েছিল। কেউ একটু কাছে গিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করলেই হাঁ করে ধারালো দাঁত দেখিয়ে তেড়ে আসছিল।
সবচেয়ে মজার কাণ্ডটা ঘটল যখন এক প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশ আর এমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুমে ফোন করে খবরটা দিলেন। ওদিকের ডিউটি অফিসার তো হেসেই খুন! তাঁরা ভাবলেন, সকাল সকাল কেউ নির্ঘাত গাঁজাখুরি গল্প ফেঁদে মজা করছে। পরে অবশ্য যখন পুলিশ আর উদ্ধারকারী দল এসে পৌঁছাল, তখন ওই ড্রেনের পাইপের ভেতর সাড়ে পাঁচ ফুটের দানবটাকে দেখে তাদের নিজেদেরও চক্ষু চড়কগাছ!
লাঠি, দড়ি আর বিশেষ জাল নিয়ে বেশ কিছুক্ষণের টানটান অপারেশনের পর অবশেষে কাইম্যান বাবাজিকে অক্ষত অবস্থায় ড্রেন থেকে টেনে বের করা সম্ভব হয়েছে। তাকে উদ্ধার করে লোকালয় থেকে দূরে, তার নিজস্ব প্রাকৃতিক আবাসে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কাইম্যানের বিদায়ের পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন লা লাগুনিটার বাসিন্দারা। তবে ড্রেন দিয়ে হাঁটার সময় এখন সবাই একটু বেশিই চোখ-কান খোলা রাখছেন!















