আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র যখন পশ্চিম এশিয়ায় কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় নৌ ও বিমান শক্তি জড়ো করছে, তখন বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও ব্যয়বহুল বিমানবাহী রণতরী USS Gerald R. Ford–এর ভেতরে চলছে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা। প্রায় ৫,০০০ নাবিক নিয়ে সমুদ্রে টানা আট মাস কাটানোর পর জাহাজটিতে দেখা দিয়েছে গুরুতর প্লাম্বিং ও টয়লেট সংকট।

ফোর্ড গত বছরের জুন থেকে সমুদ্রে রয়েছে। সাধারণত শান্তিকালে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর মোতায়েনকাল ছয় মাসের বেশি হয় না। কিন্তু ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার জেরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয়বারের মতো এর মিশন বাড়িয়েছে। ফলে দায়িত্বকাল ১১ মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে—যা মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য এক নজিরবিহীন দীর্ঘ মোতায়েন হতে পারে।

১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই রণতরীর টয়লেট ব্যবস্থা ভ্যাকুয়াম-ভিত্তিক। প্রায় ৬৫০টি টয়লেট একটি জটিল সাকশন সিস্টেমের মাধ্যমে যুক্ত। সমস্যা হলো, একটি অংশে ত্রুটি দেখা দিলে সেই সেকশনের সব টয়লেটই অকেজো হয়ে যেতে পারে। রক্ষণাবেক্ষণ দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাইপলাইনে টি-শার্ট থেকে শুরু করে চার ফুট লম্বা দড়ি পর্যন্ত আটকে থাকার ঘটনা ধরা পড়েছে। সবচেয়ে সাধারণ ত্রুটি হচ্ছে টয়লেটের পেছনের একটি যন্ত্রাংশ ঢিলে হয়ে যাওয়া।

&t=21s

সমুদ্রে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেড পিছিয়ে যায়। ফলে ছোটখাটো ত্রুটি বড় সমস্যায় রূপ নেয়। নাবিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে টয়লেট ব্যবহারের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ইঞ্জিনিয়াররা প্রায় দিন-রাত কাজ করছেন লিক ও ব্লকেজ মেরামতে।

এই শারীরিক অস্বস্তির সঙ্গে যোগ হয়েছে মানসিক চাপ। অধিকাংশ নাবিকের বয়স কুড়ির কোঠায়। দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা, গোপনীয়তার কারণে সীমিত যোগাযোগ, এবং বারবার মোতায়েন বাড়ানো—সব মিলিয়ে হতাশা বাড়ছে। এক নাবিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অনেকে এই মিশন শেষ হলেই নৌবাহিনী ছাড়ার কথা ভাবছেন।

এদিকে ওয়াশিংটন বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে—একটি বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln, নয়টি ডেস্ট্রয়ার এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট শিপ। একই সময়ে দুইটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর মধ্যপ্রাচ্যে উপস্থিতি বিরল ঘটনা।

ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের আবহে এই বিশাল সামরিক প্রস্তুতি একদিকে কৌশলগত বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে ফোর্ডের মতো সুপার-ক্যারিয়ারের ভেতরে জমে উঠছে ক্লান্তি, যান্ত্রিক ত্রুটি ও মানবিক অস্বস্তির গল্প। যুদ্ধের ছায়া যত ঘন হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—সমুদ্রে টানা মাসের পর মাস থাকা শুধু কৌশলগত সিদ্ধান্ত নয়, তা হাজার হাজার নাবিকের দৈনন্দিন জীবনের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে।