আজকাল ওয়েবডেস্ক: অবশেষে দীর্ঘ যুদ্ধের বিরতি৷ এ বার এই বিরতি নিয়েই চরম জটিলতা। সপ্তাহান্তে পাকিস্তানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠক হওয়ার কথা। কিন্তু আলোচনা শুরুর আগেই তুঙ্গে উঠেছে অনিশ্চয়তা। প্রশ্ন একটাই- শেষ পর্যন্ত কারা থাকছেন এই বৈঠকে?
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতির আবহে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চরম হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। সেই চরম সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগেই এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে থাকছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার।
কিন্তু ইরানের দিক থেকে জট কাটছে না। প্রথমে শোনা গিয়েছিল, পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে যাবেন। কিন্তু পরে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে , কোনও প্রতিনিধি দলই পাকিস্তানে যায়নি। তাদের দাবি, লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আমেরিকা কথা না রাখলে এবং ইজরায়েলি হামলা না থামলে কোনও আলোচনায় বসবে না তেহরান।
এই ডামাডোলের মধ্যে পাকিস্তান এখন প্রধান। তারা এখন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায়। আমেরিকা ও ইরান- দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে ইসলামাবাদ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগুন জ্বলছে। পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানও। এর মধ্যেই লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইজরায়েলের লড়াই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ভয়াবহ সংঘাত রুখতেই পাকিস্তানের এই 'বিশেষ' উদ্যোগ। আপাতত আমেরিকা আলোচনার টেবিলে প্রস্তুত থাকলেও, ইরান অনড়। ফলস্বরূপ ইসলামাবাদের এই 'শান্তি বৈঠক' নিয়েও চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইজরায়েলকে 'ক্যান্সারযুক্ত' বলে তোপ! একদিকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বিবাদ মেটাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা, অন্যদিকে ইজরায়েলকে 'অশুভ' বলে চরম আক্রমণ- পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফের এক মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
শুক্রবার এই মন্তব্যের পাল্টা তোপ দেগেছে তেল আভিভও। ইজরায়েলের দাবি, শান্তির 'দালালি' করতে বসা দেশের মন্ত্রীর মুখে এমন ভাষা মানায় না।
শনিবার ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি হাই-ভোল্টেজ বৈঠক হওয়ার কথা। তার ঠিক আগেই সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ বিস্ফোরক পোস্ট করেন আসিফ। তিনি লেখেন, “ইজরায়েল এখন অভিশাপ। একদিকে ইসলামাবাদে যখন শান্তির কথা চলছে, তখন লেবাননে গণহত্যা চালাচ্ছে তারা। গাজার পর এবার লেবাননেও সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরছে।”
আসিফের এই মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইজরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই বয়ান অত্যন্ত জঘন্য। মধ্যস্থতাকারী হতে চাওয়া কোনও সরকারের কাছ থেকে এমন কথা মেনে নেওয়া যায় না।”
















