আজকাল ওয়েবডেস্ক: কয়েক সপ্তাহজুড়ে টানাপোড়েন৷  'সাফল্যের' খুব কাছাকাছি গিয়েও আটকে গেল মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তির একটি খসড়া তৈরি হয়েছে। এই নিয়ে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং পাকিস্তানের সঙ্গেও কথাবার্তা চলছে।

প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ ফের খুলে দেওয়া, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা বলা হয়েছে।

তবে ইরান বলছে, এখনও অনেক বড় বড় বিবাদ মেটানো বাকি। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তারা ছাড়বে না এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার মার্কিন শর্তও তারা মানবে না। সেই সঙ্গে ইরানের দাবি, বড় কোনও চুক্তিতে যাওয়ার আগে তাদের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলতে হবে এবং আটকে থাকা টাকা ফেরত দিতে হবে।

এর মধ্যেই আবার জল ঘোলা করছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। পাশাপাশি লেবানন সমস্যা এবং বাস্তবে এই যুদ্ধবিরতি কীভাবে কাজ করবে- তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

ট্রাম্পের দাবি, আলোচনা ঠিক পথেই এগোচ্ছে, তবে ‘তাড়াহুড়ো করে চুক্তি করার দরকার নেই।’ অন্য দিকে, ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, এই সপ্তাহে বিবাদ কিছুটা কমেছে ঠিকই, তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আরও বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

 বিরোধের মূল ১০টি কারণ-

১) আমেরিকা চায় কোনও বাধা ছাড়াই এই জলপথে জাহাজ চলুক। কিন্তু ইরান এই প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি ছাড়তে নারাজ। আবার তারা নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে।

২) আমেরিকা ও ইজরায়েল চায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা বন্ধ করুক এবং মজুত ইউরেনিয়াম দিয়ে দিক। ইরান এখনই এই দাবি মানতে রাজি নয়।

৩) ইরান চায় আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উঠুক এবং তাদের আটকে থাকা টাকা ফেরত দেওয়া হোক। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান শর্ত মানলে তবেই নিষেধাজ্ঞা সরবে।

৪) এখন যা তৈরি হয়েছে, তা আসলে প্রাথমিক সমঝোতা। কঠিন বিষয়গুলো ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য ফেলে রাখা হয়েছে।

৫) ইজরায়েল চায় ইরানের পরমাণু ক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা হোক। তেহরান তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

৬) ইরান চায় লেবাননসহ পুরো অঞ্চলের যুদ্ধ বন্ধ হোক। অন্য দিকে, ইজরায়েল লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালানোর অধিকার হাতছাড়া করতে চায় না।

৭) ইরানের দাবি, আমেরিকাকে বিশ্বাস করা যায় না। কারণ ট্রাম্প তাঁর প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।

৮) তেহরান বলছে আগে নিষেধাজ্ঞা তুলতে হবে, আর ওয়াশিংটন বলছে আগে হরমুজ প্রণালী খুলতে হবে এবং পরমাণু শর্ত মানতে হবে।

৯) সমুদ্রে মাইন, জাহাজে হামলা এবং ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সঙ্কট আলোচনার গতি কমিয়ে দিয়েছে।

১০) আমেরিকা এবং ইরান- দুই দেশেরই কট্টরপন্থীরা এই সমঝোতার বিরোধিতা করছেন।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই শান্তি আলোচনার সবচেয়ে বড় কাঁটা হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজির  প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই যায়।