আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহেই বিরাট ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করলেন ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ইরানের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। এই আলোচনার পরেই পাঁচদিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করলেন ট্রাম্প।
সোমবার সমাজমাধ্যমে একটি বড়সড় পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচদিনে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলা করবে না মার্কিন সেনাবাহিনী।
শনিবার রাতে সমাজমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি পোস্টে জানিয়েছিলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে। নতুবা ইরানের সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র নিশ্চিহ্ন করে দেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই পোস্ট থেকেই ৪৮ ঘণ্টার কাউন্টডাউন শুরু বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ওই পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, "আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ় প্রণালী কোনও হুমকি ছাড়া খুলে না দেয়, তাহলে ফের ভয়ঙ্কর আঘাত করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আঘাত করেই এই হামলা শুরু হবে।"
আজ ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত দু'দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। যা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে। আলোচনা গঠনমূলক হওয়ায় আপাতত ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচদিন হামলা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্থগিতাদেশ নির্ভর করছে, চলতি সপ্তাহে আলোচনার অগ্রগতির ওপর। পরিস্থিতি বদলালে, আবারও কড়া পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, "আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, গত দুদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে ইতিবাচক আলোচনা করেছে। এই গঠনমূলক আলোচনা গোটা সপ্তাহ জুড়েই অব্যাহত থাকবে। এই আলোচনার পরেই যুদ্ধ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর কোনও ধরনের সামরিক হামলা আগামী পাঁচ দিন করা হবে না। এই স্থগিতাদেশ নির্ভর করছে, চলতি সপ্তাহে আলোচনার অগ্রগতির ওপর।"
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে হামলা চালায়। শনিবার সকালে তেহরানে প্রথম হামলা চালায় ইজরায়েল৷ ইরানের সুপ্রিম ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দপ্তরের কাছেই বিস্ফোরণ ঘটে৷ রবিবার জানা যায়, ওই হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যু হয়েছে।
এই যুদ্ধ শুরুর পরেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। যার জেরে ভারতের অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা শুরু থেকেই ছিল। যুদ্ধের ঝাঁঝ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতে এলপিজির সঙ্কটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। দাম বেড়েছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার এবং রান্নার গ্যাসেরও।
যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ দিন ভারতীয় তেলের জাহাজ হরমুজ় প্রণালীর পশ্চিম প্রান্তে আটকে ছিল। পরে ইরানের অনুমতিতে হরমুজ় পেরোতে পেয়েছে ভারতীয় কিছু তেলের জাহাজ। দিন কয়েক আগেই তেহরান ঘোষণা করেছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজ়রায়েল ছাড়া হরমুজ় প্রণালী আর কারও জন্য বন্ধ নয়।
