আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার বিকেলেই পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপরেই মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিল ভারত।
সোমবার আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বিস্তারিত ফোনালাপ সারেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্কর। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে জয়শঙ্কর জানান, মার্কো রুবিওর সঙ্গে তাঁর আলোচনার মূল বিষয় ছিল পশ্চিম এশিয়ার চলতি সংঘাত এবং তার আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব।
পাশাপাশি জ্বালানি সঙ্কট, নিরাপত্তা এবং বিশ্ব বাজারে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর এর প্রভাবকে ঘিরে মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে আমার। বিশেষভাবে জ্বালানি সঙ্কট এবং নিরাপত্তা নিয়ে কথা হয়েছে। ভবিষ্যতেও যোগাযোগ রাখার বিষয়ে একমত হয়েছি আমরা।’
এই কূটনৈতিক যোগাযোগ এমন এক সময়ে হল, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্যে স্পষ্ট মতভেদ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
গত কয়েকদিনের চরম উত্তেজনার পর সোমবার এক নাটকীয় মোড় নিল আমেরিকা-ইরান সংঘাত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি পরিকাঠামোয় পরিকল্পিত সবরকম সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, তেহরানের সঙ্গে আমেরিকার ‘গভীর ও গঠনমূলক’ আলোচনা চলছে, যার লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের শত্রুতার অবসান ঘটানো। যদিও ওয়াশিংটনের এই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে ইরান একে আমেরিকার 'পিছু হটা' হিসেবেই বর্ণনা করছে।
সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ (Truth Social) পরপর কয়েকটি পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, গত দুই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি লেখেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের শত্রুতা সম্পূর্ণ কমানোর লক্ষ্যে গত দুই দিন ধরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।’
এই আলোচনার প্রেক্ষিতেই তিনি মার্কিন ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার’-কে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আগামী পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে কোনও রকম হামলা চালানো না হয়।
তবে ট্রাম্প এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই স্থগিতাদেশ সাময়িক এবং তা নির্ভর করবে চলতি সপ্তাহে হতে চলা আলোচনার সাফল্যের ওপর। উল্লেখ্য, এর মাত্র দু’দিন আগেই ট্রাম্প ইরানকে একটি ‘সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করে হুঙ্কার দিয়েছিলেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস না করা পর্যন্ত আমেরিকা থামবে না।
