আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে গড়াতেই তা নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা সামনে এনেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে ঘিরে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। সোমবার টেনেসিতে এক গোলটেবিল বৈঠকে ট্রাম্প যু্দ্ধ শুরুর দায় পুরোপুরি ঠেলে দেন তাঁর নিজের সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দিকেই।

তাঁর দাবি, সামরিক পদক্ষেপে নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রথম সরব হয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেসন্থ। তাঁর পাশে বসেই ট্রাম্প বলেন, ‘পিট, আমার মনে হয় তুমিই প্রথম বলেছিলে, আমাদের এটা করা দরকার, ওদের হাতে কোনওভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া যাবে না।’

ইতিমধ্যেই এই যুদ্ধ নিয়ে প্রশাসনের তরফে একাধিক কারণ সামনে এসেছে। তার মধ্যে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই যুদ্ধের কারণ নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। সংঘাত কী কারণে শুরু হল তা নিয়ে এক একজন এক একরকম মন্তব্য করছেন।

প্রশাসনের একাংশের দাবি, ইজরায়েল যেহেতু যেকোনও সময় হামলা চালাতে পারত, তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়া প্রায় অনিবার্য ছিল। আবার অন্য অংশের মতে, ইরান প্রায় পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল।

অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে যুদ্ধের সিদ্ধান্তের মুহূর্ত নিয়ে ভিন্ন বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি পিটকে ফোন করেছিলাম, জেনারেল কেইনকেও ফোন করেছিলাম, আরও অনেককে। আমরা ভেবেছিলাম, মধ্যপ্রাচ্যে একটা বড় সমস্যা রয়েছে। আমরা হয় চুপ করে থাকতে পারি, নয়তো এই সমস্যার সমাধান করতে পারি।’

গত কয়েকদিনের চরম উত্তেজনার পর সোমবার এক নাটকীয় মোড় নিল আমেরিকা-ইরান সংঘাত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি পরিকাঠামোয় পরিকল্পিত সবরকম সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের দাবি, তেহরানের সঙ্গে আমেরিকার "গভীর ও গঠনমূলক" আলোচনা চলছে, যার লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের শত্রুতার অবসান ঘটানো। যদিও ওয়াশিংটনের এই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে ইরান একে আমেরিকার 'পিছু হটা' হিসেবেই বর্ণনা করছে।

সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ (Truth Social) পরপর কয়েকটি পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, গত দুই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

তিনি লেখেন, "আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের শত্রুতা সম্পূর্ণ কমানোর লক্ষ্যে গত দুই দিন ধরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।"

এই আলোচনার প্রেক্ষিতেই তিনি মার্কিন ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার’-কে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আগামী পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে কোনও  রকম হামলা চালানো না হয়।

তবে ট্রাম্প এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই স্থগিতাদেশ সাময়িক এবং তা নির্ভর করবে চলতি সপ্তাহে হতে চলা আলোচনার সাফল্যের ওপর। উল্লেখ্য, এর মাত্র দু’দিন আগেই ট্রাম্প ইরানকে একটি "সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র" হিসেবে অভিহিত করে হুঙ্কার দিয়েছিলেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস না করা পর্যন্ত আমেরিকা থামবে না।