আজকাল ওয়েবডেস্ক: সদ্য ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে চলতি সংঘাত বন্ধ করা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু তা সম্পূর্ণ বিফলে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এবার এক রিপোর্ট সূত্রে সামনে এল, যুক্তরাষ্ট্রের একটি শর্তের গেরোয় আটকেই বিফলে গিয়েছে গোটা আলোচনা। জানা গিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব দিয়েছিল, ইরানের কাছে মজুত থাকা ইউরেনিয়াম যেন আগামী ২০ বছরে কোনওভাবে ব্যবহার না করা হয়।
গত সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় মার্কিন নেতৃত্বের এই প্রস্তাবটিই অচলাবস্থার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্র কমপক্ষে ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম স্থগিতাদেশের প্রস্তাব দিয়েছিল। সঙ্গে ছিল আরও নানা ধরনের কঠোর শর্ত।’
এতে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তেহরানের পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে ওয়াশিংটন কতটা চিন্তিত। অন্যদিকে, ইরান এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে অনেক কম সময়সীমার প্রস্তাব দেয়।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান মাত্র পাঁচ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সংক্রান্ত কর্মসূচি স্থগিত করার প্রস্তাব দেয়। অ্যাক্সিওস জানায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য, বিশেষ করে তেহরান সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে কি না এবং তাদের বর্তমানে মজুত থাকা ইউরেনিয়াম কী করা হবে সেই বিষয়গুলির মতপার্থক্যেই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।
জানা গিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানে মজুত থাকা ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায়। এর বিপরীতে, ইরান প্রস্তাব দেয় ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক স্তরের তদারকিতে ইউরেনিয়াম কমানো হবে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমার মঙ্গলবার জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রায় ১২.৫ বছরের একটি সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে। তবে তিনি এই তথ্যের উৎস বা বিস্তারিত কিছু জানাননি।
অচলাবস্থা সত্ত্বেও, এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আলোচনা এখনও জারি রয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে। পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। যা ২১ এপ্রিলের আগে উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য কমানোর চেষ্টা চলছে। মিশরের বিদেশমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি এবং তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদানও এই মধ্যস্থতায় যুক্ত আছেন।
ফিদান জানান, এই ধরনের আলোচনায় প্রাথমিক অবস্থান সাধারণত কঠোর হয়। তবে উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি বজায় রেখে সমাধানের পথ খুঁজতে আগ্রহী। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসলামাবাদ থেকে মার্কিন প্রতিনিধিদল হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
ইরানি প্রতিনিধিরা মনে করেছিলেন একটি প্রাথমিক সমঝোতা হতে পারে। কিন্তু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রকাশ্যে ইরানকে দোষারোপ করে আলোচনার সমাপ্তির ইঙ্গিত দিলে তারাও অবাক হয়ে যান।
একটি সূত্র জানায়, ‘ওই সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ইরানিরা ক্ষুব্ধ ছিল।’ এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তেহরানও চুক্তির পথে এগোতে চায়।
















