আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্কটল্যান্ডের ব্লেয়ারগওরির ৩০ বছর বয়সি দুই সন্তানের মা মেলিসা অ্যাশক্রফট অস্বাভাবিক আকারের স্তনের কারণে চরম শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছেন। তাঁর ব্রা সাইজ ৩৬ এম এবং নিজের বক্তব্য অনুযায়ী সম্ভবত তিনি যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় স্তনের অধিকারী মহিলাদের একজন। এই অতিরিক্ত ওজনের কারণে তাঁর প্রতিদিনের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সকালবেলায় বিছানা থেকে উঠতে তাঁর প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে এবং অতিরিক্ত চাপের কারণে তিনি তাঁর আট মাসের মেয়েকে কোলে তুলতেও পারেন না। দেহের বাড়তি ওজন, মেরুদণ্ডে চাপ এবং ক্রমাগত ব্যথা তাঁর দৈনন্দিন জীবনকে সীমাবদ্ধ করে তুলেছে।
মেলিসা বলেন, তাঁর পিঠের অবস্থা যেন সত্তর বছর বয়সিদের মতো এবং ব্যথা কমাতে দেওয়া ওষুধ তাঁকে মাথা ঘোরানো ও অসুস্থ অনুভূতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি জানান, বাড়ির কাজ করার সময়ও তাঁকে মাঝেমধ্যে বিরতি নিতে হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠেই তাঁকে প্রথমে ব্যথা কমানোর স্ট্রেচিং করতে হয়, তারপরই অন্য কিছু করতে পারেন। নিজের একটি পুরনো ছবি দেখে তিনি আফসোস করে বলেন, আঠারো বছর বয়সে তিনি সাইজ ৬ বা ৮ ছিলেন, অথচ তখনও তাঁর স্তনের আকার এমন ছিল যেন তিনি সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অস্ত্রোপচার করিয়েছেন।
ছোটবেলায় উল্টো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন মেলিসা। প্রথমে তাঁকে সমবয়সীরা কটাক্ষ করত ছোট বুকের জন্য, আর হঠাৎ দ্রুত শারীরিক পরিবর্তনের পর তাঁকে ‘ব্রার মধ্যে তোয়ালে ভরা’ বলে উপহাস করা হতো। কৈশোর থেকেই তিনি পিঠের ব্যথায় ভুগছেন, কিন্তু সেই সময় তিনি ভেবেছিলেন এটি হয়তো স্বাভাবিকই।
বেঁচে থাকার স্বাভাবিকতার জন্য বহু বছর চেষ্টা করেও পরিস্থিতি বদলাতে পারেননি মেলিসা। ফিজিওথেরাপি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরামর্শ—কোনোটিই কাজে আসেনি। বিশ বছর বয়সে তিনি চিকিৎসকের কাছে স্তন হ্রাসের সার্জারি করার অনুরোধ করেন, কিন্তু তাঁকে জানানো হয় সন্তান নেওয়ার পরই কেবল এ ধরনের চিকিৎসা সম্ভব। দুই সন্তান জন্ম দেওয়ার পর যখন তিনি ফের আবেদন করেন, তখন জানানো হয় তাঁর বিএমআই ৩৫ যা অত্যন্ত বেশি, এবং এনএইচএস-এর নিয়ম অনুযায়ী সার্জারি পেতে হলে এটি ২৭-এ নামাতে হবে। মেলিসার অভিযোগ, অতিরিক্ত ওজনের কারণেই তাঁর শরীরে যন্ত্রণা হচ্ছে, ফলে তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করতে বা জিমে যেতে পারছেন না। জনসমক্ষে যেতে লজ্জা লাগে এবং দৌড়ানো বা কঠোর ব্যায়াম করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
সার্জারির অপেক্ষায় তাঁর ব্যথা এবং দৈনন্দিন অসুবিধা বাড়তে থাকায় তিনি এখন ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য ৮,০০০ পাউন্ড জোগাড় করতে ক্রাউডফান্ডিং শুরু করেছেন। তিনি জানান, বড় আকারের উপযোগী ব্রা কিনতে ৮২ পাউন্ড খরচ হয়, যা তাঁর পক্ষে বহন করা কঠিন, তাই বাধ্য হয়ে ছোট এবং কম আরামদায়ক ব্রা কিনতে হয়। ওষুধ হিসেবে দেওয়া ন্যাপ্রোক্সেনও তাঁকে মাথা ভার লাগা এবং মনোসংযোগে সমস্যা তৈরি করায় তিনি সেটিও বন্ধ করেছেন।
মেলিসা বলেন, তাঁর একমাত্র ইচ্ছে ব্যথামুক্ত জীবন এবং নিজের সন্তানদের কোলে নেওয়ার সামর্থ্য ফিরে পাওয়া। তাঁর কথায়, ‘আমি শুধু স্বাভাবিক জীবন চাই। আমি আমার মেয়েকে কোলে নিতে চাই, তার সঙ্গে খেলতে চাই। এটা কোনও বিলাসিতা নয়—এটা আমার মৌলিক অধিকার।’
