আজকাল ওয়েবডেস্ক: হিংসাবিধ্বস্ত বাংলাদেশ। বিগত কয়েকমাস ধরেই সেদেশে আক্রান্ত সংখ্যালঘুরা। এই অবস্থায় ভিন্নধর্মী ও বিদেশিদের উপর হতে পারে জঙ্গি হামলা। এই আশঙ্কায় দেশবাসীকে বাংলাদেশ সফরে না যাওয়ার পরামর্শ দিল ব্রিটেন।
ব্রিটেনের প্রশাসন মঙ্গলবার নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ফলে এই সময় সেখানকার ধর্মীয় স্থান, জনাকীর্ণ এলাকা ও রাজনৈতিক সমাবেশের পাশাপাশি স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে না যাওয়াই উচিত।
ব্রিটেনের জারি করা নির্দেশিকায় সরাসরি উল্লেখ না করা হলেও রয়েছে যে, "কিছু গোষ্ঠী এমন লোকদের নিশানা করেছে যারা ইসলাম ধর্মের নয় ও তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসও পৃথক।" নির্দেশিকায় সংযোজন, "সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যেই হামলা হয়েছে । পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের মূল বড় শহরগুলি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) হামলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিত আক্রমণগুলিকে ব্যহত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।"
সন্ত্রাসবাদী হামলার সম্ভাবনা ছাড়াও, ব্রিটেন সরকার বাংলাদেশে সশস্ত্র ডাকাতি, হিংসা, অপরাধ এবং ধর্ষণ সহ অন্যান্য সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে।
একজন ক্ষমতাসীন লেবার এমপি মঙ্গলবার হাউস অফ কমন্সে বাংলাদেশের অবস্থা অবহিত করার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই নির্দেশিকা জারি করা হয়। কিয়ার স্টারমার নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ব্রিটেনের তরফে ভারতের পড়শি দেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। জনবিক্ষভের জেরে গত ৫ অগস্ট বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসেন শেখ হাসিনা। এরপর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বভার দেওয়া হয় নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূসকে। এর পর থেকেই সেখানে অত্য়াচারের ঘটনা বাড়ে। মাথাচারা দেয় মোলবাদীরা। সেদেশে বিপন্ন সংখ্যালঘুরা। ভেঙে ফেলা হয় অসংখ্য মন্দিরে। অত্যাচার চলে হিন্দু মহিলাদের উপর। নারকীয় এইসব ঘটনার পরও হাতগুটিয়ে ইউনূস সরকার। বরং হিন্দুদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মুখ চিন্ময় প্রভুকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেফতার করা হয়। কোনও আইনজীবী না মেলায় আরও একমাস জেলেই কাটাতে হবে তাঁকে। এই প্রেক্ষিতে ব্রিটেনের নির্দেশিকায় ঢাকার চাপ বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।
















