আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দপ্তর রবিবার একটি "বিশ্বব্যাপী সতর্কতা" জারি করেছে। এতে বিদেশে অবস্থানরত কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণরত মার্কিনীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা "অত্যধিক সতর্কতা অবলম্বন করেন"। কেন এই সতর্কতা? ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সতর্কবার্তায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ইরান এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলো "বিদেশে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘাঁটি কিংবা তাদের সঙ্গে যুক্ত স্থানগুলোতে" হামলার চেষ্টা চালাতে পারে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 'হরমুজ প্রণালী' ফের খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার একটি সময়সীমা জারি করেছিলেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, অন্যথায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে "আঘাত হানবে এবং সেগুলোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে।"। এর জবাবে তেহরানও উপসাগীয় অঞ্চলের মার্কিন স্বার্থসম্পন্ন জ্বালানি পরিকাঠামোগুলোর ওপর ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দেয়। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিনীদের বিশ্বব্যাপী ভ্রমণে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

মার্কিন নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, 'বিদেশ দপ্তর বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত আমেরিকানদের, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানকারীদের অত্যধিক সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে। বিদেশে অবস্থানরত আমেরিকানদের উচিত তাদের নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে জারি করা নিরাপত্তা সতর্কবার্তা ও নির্দেশিকাগুলো যথাযথভাবে মেনে চলা।' 

এতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, মাঝেমধ্যে আকাশপথ বন্ধ থাকার কারণে ভ্রমণে ঘনঘন বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং বেশ কয়েকটি দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কনস্যুলেটগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সরকার নাগরিকদের 'STEP' বা 'স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রাম' নামক একটি কর্মসূচিতে নাম নথিভুক্ত করারও আহ্বান জানিয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকদের "সর্বশেষ নিরাপত্তা সতর্কবার্তাগুলো" সম্পর্কে অবহিত করা হবে।

ইরানের 'খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর'-এর কমান্ডার মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহি জানিয়েছেন যে, ইরানের সামরিক নীতি বা কৌশল এখন রক্ষণাত্মক অবস্থান থেকে সরে এসে আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি যখন একটি অচলাবস্থার দিকে গড়াচ্ছে। এই অবস্থায় উভয় পক্ষই চরম পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। কারণ কোনও পক্ষই এককভাবে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারছে না। 
রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন যে, আমেরিকা যেকোনও মূল্যে- এমনকী অভ্যুত্থান ঘটানো, অপহরণ এবং সম্পদসমৃদ্ধ দেশগুলোর নেতাদের গুপ্তহত্যার মতো জঘন্য পন্থার আশ্রয় নিয়েও - জ্বালানি বাজারের ওপর নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে একটি সামরিক অভিযান চালায়। ওই অভিযানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-সহ ইরানের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং অন্তত ১,৩০০ জন মানুষ নিহত হন। শিয়া ধর্মমতে 'আয়াতোল্লা' পদমর্যাদাটি ক্যাথলিকদের 'পোপ'-এর সমতুল্য। কিন্তু পশ্চিমী বিশ্ব - হয় ঔদ্ধত্যের কারণে, নয়তো বর্ণবাদী মানসিকতার বশবর্তী হয়ে - এই পদমর্যাদার গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে স্বীকার করতে নারাজ। তাছাড়া, যুদ্ধ পরিস্থিতি যখন দীর্ঘায়িত হচ্ছে, তখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য দেশের অভ্যন্তরে জনসমর্থন সুসংহত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। আর ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই একটি "বিশ্বব্যাপী সতর্কতা" জারি করা হলে তা জনগণের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয় সংহতির জোয়ার তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।