আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১০ শতাংশের কথা ঘোষণা করেছিলেন সুপ্রিম ধাক্কা খাওয়ার পর। কিন্তু ট্রাম্প যেন আরও বেরপোয়া। ১০ থেকে বাড়িয়ে শুল্ক আরোপ করলে ১৫ শতাংশ, রাতারাতি। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সাফ জানিয়ে দেন, 'আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমি দ্রুত বিভিন্ন দেশের উপর ‘গ্লোবাল’ শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ করব।'

 

এর আগে, ২০ তারিখ আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর চাপানো অতিরিক্ত আমদানিশুল্ক বা ‘ট্যারিফ’ বাতিল করে দেয় সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। সে দেশের শীর্ষ আদালত সাফ জানায়, ঢালাও শুল্ক বসিয়ে আসলে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। জরুরি অবস্থার জন্য তোলা থাকা একটি আইনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এই কর চাপিয়েছিলেন, যা একেবারেই নিয়মবিরুদ্ধ।

 

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দেশের বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে বিপুল শুল্ক বসানো প্রয়োজন। একে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ বলে ঘোষণা করে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর কর চাপান তিনি। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, মার্কিন অর্থনীতিকে বাঁচাতে এই কড়া পদক্ষেপ ছাড়া গতি নেই।  মূলত, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ প্রয়োগ করে ট্রাম্প যে শুল্ক নীতি চালু করেছিলেন, ৬-৩ বিচারপতির রায়ে তাকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়।

 

কিন্তু তাতে যেন আরও বেপরোয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রায় ঘোষণার প্রেই, ১০ শতাংশ গ্লোবাল ট্যারিফ যোগ করেছিলেন। তার ২৪ ঘণ্টা পেরনোর আগেই ফের বড় নির্দেশ। ১০ থেকে বাড়িয়ে আরোপ করবেন এবার ১৫ শতাংশ শুল্ক। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, 'অনেক মাস ধরে চিন্তাভাবনার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের গতকাল জারি করা হাস্যকর, দুর্বল এবং অসাধারণভাবে আমেরিকা-বিরোধী শুল্কের সিদ্ধান্তের পুঙ্খানুপুঙ্খ, বিস্তারিত এবং সম্পূর্ণ পর্যালোচনার ভিত্তিতে, নয়া বিবৃতি।' তারপরেই লেখেন,  'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে, দেশগুলির উপর ১০% থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ বিশ্বব্যাপী শুল্ক বৃদ্ধি করব, যাদের মধ্যে অনেকেই কয়েক দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিংড়ে নিয়েছে।'

 

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আমদানি শুল্ক বাবদ ট্রাম্পের আয় হয়েছে ১৩.৩৫ হাজার কোটি ডলার। শুল্ককে বেআইনি বললেও টাকা ফেরতের বিষয়টি স্পষ্ট করেনি আমেরিকার আদালত। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে নিম্ন আদালতগুলি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমেরিকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের উপরেও বিষয়টি ছাড়া হতে পারে। তবে নিজে থেকে যে টাকা ফেরত চলে আসবে না, তা একপ্রকার নিশ্চিত।