আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ‘ম্যানপ্যাডস’ বা ‘ম্যান পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’। এটি এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র যা সহজেই কাঁধে করে বহন করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের গোটা চিত্রটাই বদলে দিতে সক্ষম।
তুলনামূলকভাবে সস্তা এই অস্ত্রটি দ্রুত লুকিয়েও ফেলা যায় এবং যেহেতু ব়্যাডার-নির্ভর অস্ত্র নয় ফলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে। পাশাপাশি এই অস্ত্র অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বেশি দ্রুত গতিতে কাজ করে। মাটি থেকে চার-পাঁচ কিলোমিটার উপরেও যদি শত্রুপক্ষের কোনও যুদ্ধবিমানকে কেন্দ্র করে ম্যানপ্যাডস ক্ষেপণ করা হয় তবে সে লক্ষচ্যুত হবে না। কিন্তু এর চেয়ে বেশি উপরে এই অস্ত্র আঘাত করতে পারে না।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইরান আমেরিকার বিরুদ্ধে অনেকগুলি সফল সামরিক অভিযান চালিয়েছে। ইরান এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল এবং এ-১০ ওয়ার্থয়গ-এর আক্রমণ মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। এছাড়াও একটি ই-থ্রি সেন্ট্রি ধ্বংস করার পাশাপাশি পাঁচটি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোটঙ্কের ধ্বংস করার মতো ঘটনার উল্লেখও পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু আমেরিকা দাবি করে ইরানের নাকি কোনও ভাল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। আমেরিকার যুদ্ধবিমান বিনা বাধায় ইরানের আকাশসীমার মধ্যে অভিযান চালাচ্ছে। যদিও ইরান এই বিষয়ে এখনও কোনও বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশে আমেরিকার আধিপত্য থাকলেও এই চিত্রটা বদলে যেতে পারে যদি স্থলযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। কারণ স্থলযুদ্ধের ক্ষেত্রে যুদ্ধবিমান অনেক নীচ দিয়ে ওড়ে। ফলে এই ম্যানপ্যাডস নামক ক্ষেপণাস্ত্রের পক্ষে সহজ হয়ে যাবে বেশ অনেকটা দূর থেকেই আমেরিকার যুদ্ধবিমানকে কেন্দ্র করে আক্রমণ করা। আর তেমনটা হলে নিমেষের মধ্যে মাটিতে মিশে যাবে আমেরিকার আকাশের আধিপত্য। এছাড়া ইরানে পাহাড়ি উপত্যকা থাকায় সহজেই লুকিয়ে আক্রমণ করতে পারবে তারা। ফলে স্থলযুদ্ধ শুরু হলে আমেরিকার প্রায় ল্যাজেগোবরে অবস্থা হয়ে যাবে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান চীনের তৈরি ম্যানপ্যাডস ক্ষেপণাস্ত্র বিপুল পরিমাণে কিনেছে। তবে এই তথ্য অস্বীকার করেছে চীন। বেইজিং জনিয়েছে, ইরানের সঙ্গে অস্ত্রের ব্যাপারে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাছাড়া ইরান চীনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে এমন কোনও প্রমাণও সামনে আসেনি।
একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান চীনের একটি নজরদারি স্যাটেলাইট ব্যবহার করে আমেরিকান ঘাঁটি টার্গেট করেছে। এছাড়া চীনের সহায়তায় তৈরি একটি নতুন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহারের কথাও ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে চীনের কাছ থেকে কোনও অস্ত্র কেনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও তথ্য সামন আসেনি।















