আজকাল ওয়েবডেস্ক: গোটা ইউরোপ জুড়ে তীব্র তাপদাহ ও খরা পরিস্থিতির। এমনকি বেশ কিছু এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ দাবানল। গ্রীসের রাজধানী এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমে পোর্তো জার্মেনো এলাকায় সেই আগুনে একশোরও বেশি ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ কেফালোনিয়াতেও নতুন করে আগুন ছড়ানোয় সেখানকার বেশ কিছু বাড়ি খালি করা হয়েছে। এমনটাই জানা গিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স সূত্রে।
এথেন্সের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এখন প্রায় ৫০০ গ্রীক দমকল কর্মী কাজ করছেন। তাঁদের সাহায্য করতে ফ্রান্স ও রোমানিয়া থেকেও এসেছে অগ্নিনির্বাপক কাজের সঙ্গে জড়িত কর্মীরা। স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা 'প্রোটোথেমা'-র তথ্য অনুযায়ী, দাবানলে ইতিমধ্যে ১০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। আগুন নেভাতে স্থানীয় বাসিন্দারাও দমকল কর্মীদের পাশাপাশি কাজ করছেন। ফ্রান্স ও স্পেনে দাবানল কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও গ্রীসে একাধিক এলাকায় ক্রমাগত আগুন ছড়িয়ে পড়ছে।
একদিকে দাবানলের গ্রাস, অন্যদিকে খরার কারণে রাইন এবং দানিয়ুবের মতো নদীগুলোর জলস্তর রেকর্ড পরিমাণে নেমে গিয়েছে। হাঙ্গেরি, সার্বিয়া এবং রোমানিয়ায় দানিয়ুব নদীর জলস্তর সর্বকালের রেকর্ড গড়ে পৌঁছে গিয়েছে সর্বনিম্ন স্তরে।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ার সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, দানিয়ুব শুকিয়ে যাওয়ার কারণে বিগত চার দশকের মধ্যে প্রথমবার দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জল সঙ্কটের কারণে হাঙ্গেরির শতাধিক শহরে জল ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া জলস্তর নেমে যাওয়ায় শিপিং ও পর্যটন শিল্প চরম ব্যাহত হচ্ছে।
সার্বিয়াতেও দানিয়ুবের জলস্তর ১৯৮৫ সালের পর সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। যার ফলে দেশের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কমে মাত্র ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই গোটা ইউরোপ জুড়ে আবহাওয়া এমন চরম রূপ বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
















